অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া (Torsion Testis): ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক
টেস্টিকুলার টরশন হলো একটি জরুরি অবস্থা যেখানে অণ্ডকোষ তার নিজস্ব spermatic cord-এর চারপাশে ঘুরে যায়। এর ফলে অণ্ডকোষে রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং অক্সিজেন পৌঁছায় না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এজন্য এটিকে urological emergency বলা হয়। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। চিকিৎসা না করলে ৬ ঘণ্টার মধ্যে testis necrosis হয়ে যায়। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
১) পরিচিতি
অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে অণ্ডকোষ তার spermatic cord-এর চারপাশে ঘুরে গিয়ে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এটি সাধারণত হঠাৎ করে ঘটে এবং শিশুর তীব্র ব্যথা হয়। টেস্টিকুলার টরশনকে অন্য রোগ যেমন epididymitis বা hydrocele থেকে আলাদা করা জরুরি, কারণ টরশন হলে দ্রুত সার্জারি না করলে অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যায়।
- প্রকৃতি: অণ্ডকোষ spermatic cord-এর চারপাশে ঘুরে যায়
- ফলাফল: রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে testis necrosis
- সময়: ৬ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না করলে অণ্ডকোষ নষ্ট
২) কারণ (Causes)
টেস্টিকুলার টরশনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় — intrinsic (অ্যানাটমিক/বংশগত) এবং extrinsic (বাহ্যিক/অজানা)। সবচেয়ে পরিচিত intrinsic কারণ হলো Bell-clapper deformity, যেখানে অণ্ডকোষ ঠিকভাবে scrotum-এ fix থাকে না। ফলে অণ্ডকোষ সহজেই ঘুরে যেতে পারে। শিশুদের মধ্যে অনেক সময় অজানা কারণে টরশন হয়, যেমন হঠাৎ শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তন বা অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কারণ।
- Intrinsic কারণ: Bell-clapper deformity
- Extrinsic কারণ: হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন, অজানা কারণ
৩) লক্ষণ (Symptoms)
টেস্টিকুলার টরশনের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো হঠাৎ একপাশের স্ক্রোটামে তীব্র ব্যথা। ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে শিশুর অস্থিরতা দেখা দেয়। স্ক্রোটাম ফুলে যায়, লাল হয় এবং উষ্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিশুর পেট ব্যথা বা বমি হতে পারে। ব্যথা কখনও উপরের দিকে উঠতে পারে। অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হঠাৎ স্ক্রোটাম ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়া।
- তীব্র ব্যথা: হঠাৎ একপাশের স্ক্রোটামে
- ফোলা: স্ক্রোটাম ফুলে যায়
- লাল/উষ্ণ: স্ক্রোটাম লাল ও উষ্ণ হয়
- অতিরিক্ত লক্ষণ: পেট ব্যথা, বমি
৪) ডায়াগনোসিস (Diagnosis)
টেস্টিকুলার টরশন নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা হলো Doppler Ultrasound বা Duplex study। এতে দেখা যায় অণ্ডকোষে রক্তপ্রবাহ কম বা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে অনেক সময় শুধুমাত্র পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এজন্য জরুরি সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকরা বলেন, “Don’t delay for diagnosis, operate early” — অর্থাৎ দেরি না করে দ্রুত অপারেশন করতে হবে।
- Doppler Ultrasound: রক্তপ্রবাহ কম বা বন্ধ আছে কিনা দেখা যায়
- Clinical suspicion: হঠাৎ ব্যথা হলে টরশন সন্দেহ
- Definitive diagnosis: জরুরি সার্জারি ছাড়া নিশ্চিত বলা মুশকিল
৫) চিকিৎসা (Treatment)
টেস্টিকুলার টরশন একটি সার্জিকাল ইমার্জেন্সি। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো অণ্ডকোষে রক্তপ্রবাহ পুনরায় ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে আবার টরশন না হয় তা নিশ্চিত করা। এজন্য জরুরি সার্জারি করতে হয়। সাধারণত Detorsion করে অণ্ডকোষকে সঠিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং Orchidopexy করে অণ্ডকোষকে স্থায়ীভাবে fix করা হয়। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — ৬–৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না করলে অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যায়।
- Detorsion: অণ্ডকোষকে ঘুরিয়ে সঠিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা
- Orchidopexy: অণ্ডকোষকে স্থায়ীভাবে fix করা
- Contralateral orchidopexy: অন্য অণ্ডকোষও fix করা হয়
- Necrotic testis: নষ্ট হয়ে গেলে orchiectomy করে ফেলা হয়
৬) জটিলতা (Complications)
চিকিৎসা দেরি হলে অণ্ডকোষে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং testis necrosis হয়। এর ফলে অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় অণ্ডকোষ কেটে ফেলতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে শিশুর প্রজনন ক্ষমতা ও হরমোন উৎপাদনে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া মানসিক চাপও তৈরি হয়।
- Testis necrosis: অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যাওয়া
- Infertility: প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে
- Hormonal imbalance: হরমোন উৎপাদনে সমস্যা
- Psychological stress: শিশুর মানসিক চাপ
৭) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ
অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হঠাৎ স্ক্রোটাম ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়া। অনেক সময় ব্যথা কমে গেলে অভিভাবকরা মনে করেন সমস্যা নেই, কিন্তু টরশন হলে ব্যথা কমে গেলেও অণ্ডকোষে রক্তপ্রবাহ বন্ধ থাকে। তাই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। খেলাধুলা বা আঘাতের পর যদি ব্যথা হয়, তাও গুরুত্ব দিতে হবে।
- হঠাৎ ব্যথা: গুরুত্ব দিন, দেরি করবেন না
- ব্যথা কমে গেলে: “ভালো হয়ে গেছে” ভাবা ঠিক নয়
- আঘাতের পর: ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন
- সচেতনতা: অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর (FAQs)
অভিভাবকদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে অপারেশন নিয়ে। সাধারণত অপারেশন জরুরি ভিত্তিতে করা হয়। এতে অণ্ডকোষকে সঠিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং স্থায়ীভাবে fix করা হয়। অন্য অণ্ডকোষও fix করা হয় যাতে ভবিষ্যতে আবার টরশন না হয়। অপারেশনের পর কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়, তাই দাগ থাকে না। সেলাই কাটার প্রয়োজন হয় না। অপারেশনের পরদিন থেকেই শিশুর স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব হয়। অপারেশন করতে সাধারণত ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে।
- অপারেশন সময়: ৩০–৪০ মিনিট
- দাগ: থাকে না, কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়
- সেলাই কাটার প্রয়োজন: নেই
- চলাফেরা: অপারেশনের পরদিন থেকেই সম্ভব
- Contralateral orchidopexy: অন্য অণ্ডকোষও fix করা হয়
শেষ কথাঃ
টেস্টিকুলার টরশন একটি জরুরি অবস্থা। সময়মতো চিকিৎসা করলে অণ্ডকোষ বাঁচানো সম্ভব, কিন্তু দেরি করলে অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যায়। অভিভাবকদের উচিত হঠাৎ স্ক্রোটাম ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলো‑আপই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে। 250464
