ব্যালানোপোস্থাইটিস (Balanoposthitis): ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

ব্যালানোপোস্থাইটিস হলো পেনিসের মাথা (glans penis) এবং খোলসের ভেতরের চামড়া (prepuce/foreskin) — এই দুই অংশের একসাথে প্রদাহ বা inflammation। এটি সাধারণত uncircumcised শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। প্রদাহের কারণে শিশুর প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালা-পোড়া, লালচে ভাব, ফোলা এবং কখনও পুঁজ বের হতে পারে। অভিভাবকদের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক অবস্থা, কারণ শিশুর অস্বস্তি ও কান্না অনেক সময় অন্য রোগের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু ব্যালানোপোস্থাইটিস আলাদা এবং সময়মতো চিকিৎসা না করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

১) পরিচিতি

ব্যালানোপোস্থাইটিস হলো শিশুদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে যাদের খতনা (circumcision) হয়নি। পেনিসের মাথা ও খোলসের ভেতরের চামড়া একসাথে প্রদাহগ্রস্ত হয়। এর ফলে শিশুর প্রস্রাবের সময় কষ্ট হয় এবং অস্বস্তি দেখা দেয়। অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন এটি সাধারণ ফোলা বা ডায়াপারের কারণে হয়েছে, কিন্তু আসলে এটি একটি সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত সমস্যা।

  • প্রকৃতি: glans penis ও foreskin-এর প্রদাহ
  • ঝুঁকি: uncircumcised শিশুদের মধ্যে বেশি
  • অভিভাবকদের সচেতনতা: প্রস্রাবের সময় শিশুর কান্না বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা জরুরি

২) কারণ (Causes)

ব্যালানোপোস্থাইটিস হওয়ার কারণ অনেক। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো সংক্রমণ। ব্যাকটেরিয়া যেমন Staphylococcus বা Streptococcus এবং ফাঙ্গাস যেমন Candida albicans সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এছাড়া অস্বচ্ছতা, প্রস্রাব বা ময়লা জমে থাকা, সাবান বা ডিটারজেন্টের কারণে irritation, foreskin টাইট থাকা (phimosis) এবং অ্যালার্জি থেকেও ব্যালানোপোস্থাইটিস হতে পারে।

  • সংক্রমণ: ব্যাকটেরিয়া (Staphylococcus, Streptococcus), ফাঙ্গাস (Candida albicans)
  • অস্বচ্ছতা: প্রস্রাব বা ময়লা জমে থাকা
  • Irritation: সাবান, ডিটারজেন্ট বা ডায়াপারের ঘর্ষণ
  • Phimosis: foreskin টাইট থাকলে ময়লা জমে যায়
  • Allergic reaction: কোনো ointment বা কেমিক্যালের অ্যালার্জি

৩) লক্ষণ (Symptoms)

ব্যালানোপোস্থাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো শিশুর প্রস্রাবের সময় কান্না বা অস্বস্তি। পেনিসের মাথা লাল হয়ে যায়, ফুলে যায় এবং ব্যথা বা জ্বালা-পোড়া হয়। অনেক সময় হালকা জ্বরও হতে পারে। প্রস্রাবের সময় burning sensation বা pain হয়। এছাড়া সাদা বা হলুদ পুঁজ/ডিসচার্জ দেখা যায়। অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুর আচরণ লক্ষ্য করা — যদি শিশু বারবার লিঙ্গে হাত দেয় বা প্রস্রাবের সময় কান্না করে, তবে এটি ব্যালানোপোস্থাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।

  • শিশুর আচরণ: বারবার লিঙ্গে হাত দেওয়া, প্রস্রাবের সময় কান্না
  • লালচে ভাব: পেনিসের মাথা লাল হয়ে যায়
  • ফোলা: glans penis ফুলে যায়
  • ব্যথা/জ্বালা: প্রস্রাবের সময় burning sensation
  • জ্বর: কখনও হালকা জ্বর হতে পারে
  • ডিসচার্জ: সাদা বা হলুদ পুঁজ বের হয়

৪) চিকিৎসা (Treatment)

ব্যালানোপোস্থাইটিসের চিকিৎসা মূলত নির্ভর করে প্রদাহের কারণের ওপর। যদি সংক্রমণজনিত হয়, তবে চিকিৎসক সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দেন। তবে শুধু ওষুধই নয়, পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিশুর লিঙ্গ প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। অনেক সময় চিকিৎসক ভায়োডিন মিশিয়ে দিনে ২–৩ বার ধোয়ার পরামর্শ দেন। যদি foreskin টাইট থাকে (phimosis), তবে জোর করে টানার চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ এতে আঘাত লাগতে পারে। বারবার হলে circumcision প্রয়োজন হতে পারে। অভিভাবকদের উচিত শিশুর প্রস্রাবের সময় কান্না বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।

  • কুসুম গরম পানিতে ভায়োডিন মিশিয়ে দিনে ২–৩ বার ধোয়া
  • অ্যান্টিবায়োটিক, antihistamine, ব্যথানাশক চিকিৎসকের পরামর্শে
  • পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • Phimosis থাকলে জোর করে foreskin টানা নয়
  • Recurrent হলে circumcision প্রয়োজন হতে পারে

৪) চিকিৎসা (Treatment)

ব্যালানোপোস্থাইটিসের চিকিৎসা মূলত নির্ভর করে প্রদাহের কারণের ওপর। যদি সংক্রমণজনিত হয়, তবে চিকিৎসক সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দেন। তবে শুধু ওষুধই নয়, পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিশুর লিঙ্গ প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। অনেক সময় চিকিৎসক ভায়োডিন মিশিয়ে দিনে ২–৩ বার ধোয়ার পরামর্শ দেন। যদি foreskin টাইট থাকে (phimosis), তবে জোর করে টানার চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ এতে আঘাত লাগতে পারে। বারবার হলে circumcision প্রয়োজন হতে পারে। অভিভাবকদের উচিত শিশুর প্রস্রাবের সময় কান্না বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।

  • কুসুম গরম পানিতে ভায়োডিন মিশিয়ে দিনে ২–৩ বার ধোয়া
  • অ্যান্টিবায়োটিক, antihistamine, ব্যথানাশক চিকিৎসকের পরামর্শে
  • পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • Phimosis থাকলে জোর করে foreskin টানা নয়
  • Recurrent হলে circumcision প্রয়োজন হতে পারে

৫) জটিলতা (Complications)

চিকিৎসা না করলে ব্যালানোপোস্থাইটিস থেকে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে foreskin আরও টাইট হয়ে যায় এবং phimosis তৈরি হয়। এতে প্রস্রাবের সময় শিশুর কষ্ট হয় এবং urinary tract infection হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ থেকে scar tissue তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে যৌন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া বারবার সংক্রমণ হলে শিশুর মানসিক চাপও বাড়ে।

  • Phimosis (foreskin টাইট হয়ে যাওয়া)
  • Urinary tract infection
  • Scar tissue তৈরি হয়ে ভবিষ্যতে সমস্যা
  • শিশুর মানসিক চাপ বৃদ্ধি

৬) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। প্রতিদিন শিশুর লিঙ্গ কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। ডায়াপার নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে। সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এগুলো irritation বাড়ায়। শিশুর প্রস্রাবের সময় কান্না বা অস্বস্তি হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। বারবার হলে circumcision প্রয়োজন হতে পারে। অভিভাবকদের সচেতনতা শিশুর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে ধোয়া
  • ডায়াপার নিয়মিত পরিবর্তন
  • সাবান/ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করা
  • প্রস্রাবের সময় কান্না হলে চিকিৎসকের কাছে যান
  • বারবার হলে circumcision প্রয়োজন হতে পারে

৭) অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর (FAQs)

অভিভাবকদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে ব্যালানোপোস্থাইটিস নিয়ে। সাধারণত এটি ওষুধ ও পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতায় ভালো হয়ে যায়। তবে বারবার হলে circumcision প্রয়োজন হয়। অপারেশন সাধারণত ছোট ছিদ্র করে করা হয় এবং কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়, তাই দাগ থাকে না। সেলাই কাটার প্রয়োজন হয় না। অপারেশনের পরদিন থেকেই শিশুর স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব হয়। অপারেশন করতে সাধারণত ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে। ভবিষ্যতে শিশুর যৌন সমস্যা বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না।

  • সাধারণত ওষুধ ও পরিচ্ছন্নতায় ভালো হয়
  • বারবার হলে circumcision প্রয়োজন
  • কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়, দাগ থাকে না
  • সেলাই কাটার প্রয়োজন নেই
  • অপারেশনের পরদিন থেকেই স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব
  • সময় লাগে ৩০–৪০ মিনিট
  • ভবিষ্যতে যৌন সমস্যা বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না

৮) শেষ কথাঃ

ব্যালানোপোস্থাইটিস শিশুদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগজনক। সময়মতো চিকিৎসা করলে এটি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। অভিভাবকদের উচিত শিশুর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলো‑আপই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে। 250464