সারকামসিশন (Circumcision): ৮টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

সারকামসিশন (Circumcision): ৮টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

সারকামসিশন বা মুসলমানী হলো একটি সার্জিকাল প্রক্রিয়া যেখানে পেনিসের মাথার চারপাশের চামড়া (foreskin) কেটে ফেলা হয়। এটি দুই কারণে করা হয় — প্রথমত মেডিকেল কারণে, দ্বিতীয়ত ধর্মীয় কারণে। মেডিকেল কারণে যদি সারকামসিশন করতে হয়, তবে বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয়; যখন সমস্যা দেখা দেয় তখনই অপারেশন করতে হয়। কিন্তু ধর্মীয় কারণে সারকামসিশন সাধারণত শিশুর বয়স একটু বেশি হলে করা হয়।

১) বয়স (Best Age)

সারকামসিশনের সঠিক বয়স নির্ভর করে উদ্দেশ্যের ওপর। মেডিকেল কারণে যেমন phimosis, recurrent balanoposthitis, urinary tract infection ইত্যাদি হলে বয়স কোনো বিষয় নয় — তখনই অপারেশন করতে হয়। ধর্মীয় কারণে সাধারণত শিশুর বয়স কয়েক বছর হলে সারকামসিশন করা হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে সারকামসিশন করলে শিশুর জন্য নিরাপদ হয়। তবে ৬–৭ বছর বয়সের পর শিশুর মানসিক পরিপক্বতা বাড়ে, ফলে অজ্ঞান বা অবশ অবস্থায় অপারেশন করাও সহজ হয়।

  • মেডিকেল কারণে: বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয়
  • ধর্মীয় কারণে: বয়স একটু বেশি হলে করা যায়
  • শিশুর মানসিক পরিপক্বতা: ৬–৭ বছর বয়সে বেশি থাকে

২) সারকামসিশনের গুরুত্ব

সারকামসিশনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত কারণ এটি একটি সার্জিকাল প্রক্রিয়া। অপারেশনের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। কোনো ধাপ অসম্পূর্ণ বা অবহেলা করলে শিশুর ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। যেহেতু এটি একটি কসমেটিক অপারেশন, তাই অপারেশনে কোনো ত্রুটি হলে শিশুকে সারাজীবন তা বহন করতে হবে। প্রতিবার প্রস্রাবের সময় শিশুর অসুবিধা হবে এবং বিকৃত পেনিস নিয়ে সারাজীবন যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।

  • সার্জিকাল প্রক্রিয়া: প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা জরুরি
  • কসমেটিক গুরুত্ব: অপারেশনে ত্রুটি হলে সারাজীবন সমস্যা
  • ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: প্রস্রাবের সময় অসুবিধা, বিকৃত পেনিস

৩) প্রস্তুতি (Preparation)

সারকামসিশনের আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রথমেই শিশুর রুটিন কিছু পরীক্ষা করা হয়, যেমন CBC, CT, BT, Blood grouping, Chest X-ray, Serum Creatinine ইত্যাদি। এরপর নিশ্চিত হতে হয় যে শিশুর কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ নেই। যদি সর্দি, কাশি বা অন্য কোনো অসুখ থাকে, তবে আগে সেই রোগের চিকিৎসা করতে হয়। অপারেশনের আগে শিশুকে ৪–৫ ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হয়। এক ফোঁটা পানি বা খাবার দেওয়া যায় না।

  • রুটিন পরীক্ষা: CBC, CT, BT, Blood grouping, CXR, Serum Creatinine
  • রোগের অবস্থা: সর্দি/কাশি থাকলে আগে চিকিৎসা
  • খালি পেট: অপারেশনের আগে ৪–৫ ঘণ্টা

৪) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

সারকামসিশন করার জন্য কিছু ব্যবস্থা থাকা জরুরি। একজন অভিজ্ঞ সার্জন, একজন এনেস্থেটিস্ট, একজন সার্জনের সহকারী চিকিৎসক থাকতে হবে। জীবাণুমুক্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন থিয়েটার, জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি, কসমেটিক সেলাইয়ের সুতা, অজ্ঞান/অবশ করার ঔষধ ও মেশিন থাকতে হবে। এছাড়া অপারেশন পরবর্তী ওষুধও প্রস্তুত রাখতে হয়।

  • সার্জন: অভিজ্ঞ চিকিৎসক
  • এনেস্থেটিস্ট: অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ
  • অপারেশন থিয়েটার: জীবাণুমুক্ত ও স্ট্যান্ডার্ড
  • যন্ত্রপাতি: জীবাণুমুক্ত ও কসমেটিক সুতা
  • অজ্ঞান/অবশ: নিরাপদ ঔষধ ও মেশিন
  • পরবর্তী চিকিৎসা: প্রয়োজনীয় ওষুধ

৫) অপারেশন প্রক্রিয়া (Surgical Procedure)

সারকামসিশন একটি কসমেটিক সার্জারি, যেখানে foreskin কেটে ফেলা হয়। অপারেশনের সময় বাইরের চামড়া বেশি কাটা যাবে না, কারণ এতে পেনিসের অনুভূতি কমে যেতে পারে। আবার ভেতরের মিউকোসা বেশি রেখে দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণে চামড়া কেটে ফেলা জরুরি। অপারেশনের সময় রক্তপাত বন্ধ করতে হয় এবং চিকন, কসমেটিক সেলাই ব্যবহার করতে হয়। সাধারণত অপারেশন করতে ২০–৩০ মিনিট সময় লাগে।

  • বাইরের চামড়া বেশি কাটা যাবে না
  • ভেতরের মিউকোসা বেশি রাখা যাবে না
  • রক্তপাত বন্ধ করতে হবে
  • কসমেটিক সেলাই ব্যবহার করতে হবে
  • সময় লাগে ২০–৩০ মিনিট

৬) অজ্ঞান/অবশ (Anesthesia)

সারকামসিশন একটি সংবেদনশীল অপারেশন, তাই অজ্ঞান বা অবশ ছাড়া করা সম্ভব নয়। সাধারণত অভিজ্ঞ এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ শিশুকে অজ্ঞান করেন। অপারেশনের আগে শিশুর কিছু পরীক্ষা করা হয়, যেমন CBC, CT, BT, Blood grouping, CXR, Serum Creatinine ইত্যাদি। রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত করা হয় যে শিশুটি অপারেশনের জন্য উপযুক্ত। এরপর এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ শিশুকে পরীক্ষা করে পরামর্শ দেন। এভাবে নিয়ম মেনে অপারেশন করলে অজ্ঞানজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

  • অজ্ঞান ছাড়া অপারেশন সম্ভব নয়
  • অভিজ্ঞ এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি জরুরি
  • অপারেশনের আগে রুটিন পরীক্ষা করা হয়
  • অজ্ঞানজনিত ঝুঁকি কমে যায়

৭) জটিলতা (Complications)

সারকামসিশন সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু জটিলতা হতে পারে। যদি অপারেশনে ত্রুটি থাকে, তবে শিশুর প্রস্রাবের সময় অসুবিধা হতে পারে। বাইরের চামড়া বেশি কেটে ফেললে পেনিসের অনুভূতি কমে যায়। ভেতরের মিউকোসা বেশি রেখে দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হয়। রক্তপাত বন্ধ না করলে ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়া ডিভাইস বা লেজার দিয়ে অপারেশন করলে পেনিসের শেপ ভালো হয় না এবং পুনরায় অপারেশন লাগতে পারে।

  • প্রস্রাবের সময় অসুবিধা
  • পেনিসের অনুভূতি কমে যাওয়া
  • ভেতরের মিউকোসা বেশি থাকলে সমস্যা
  • রক্তপাত ও ইনফেকশন
  • ডিভাইস/লেজার অপারেশনে শেপ ভালো হয় না

৮) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

অভিভাবকদের উচিত সারকামসিশন করার আগে শিশুর রুটিন পরীক্ষা করানো। যদি শিশুর সর্দি, কাশি বা দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকে, তবে আগে সেই রোগের চিকিৎসা করতে হবে। অপারেশনের আগে শিশুকে ৪–৫ ঘণ্টা খালি পেটে রাখতে হবে। অপারেশনের পর শিশুকে পোস্ট-অপারেটিভ রুমে রাখা হয় এবং চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কোনো খাবার বা পানি দেওয়া যাবে না। অভিভাবকদের উচিত অভিজ্ঞ সার্জন ও এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের কাছে অপারেশন করানো।

  • রুটিন পরীক্ষা করান
  • সর্দি/কাশি থাকলে আগে চিকিৎসা করুন
  • অপারেশনের আগে শিশুকে খালি পেটে রাখুন
  • অপারেশনের পর চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন
  • অভিজ্ঞ সার্জন ও এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের কাছে অপারেশন করান

অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর (FAQs)

অভিভাবকদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে সারকামসিশন নিয়ে। সাধারণত অপারেশন করতে ২০–৩০ মিনিট সময় লাগে। কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়, তাই দাগ থাকে না। সেলাই কাটার প্রয়োজন হয় না। অপারেশনের পরদিন থেকেই শিশুর স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে শিশুর যৌন সমস্যা বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না। ডিভাইস বা লেজার দিয়ে অপারেশন করলে শেপ ভালো হয় না এবং পুনরায় অপারেশন লাগতে পারে।

  • সময় লাগে ২০–৩০ মিনিট
  • কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়, দাগ থাকে না
  • সেলাই কাটার প্রয়োজন হয় না
  • অপারেশনের পরদিন থেকেই শিশুর স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব
  • ভবিষ্যতে যৌন সমস্যা বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না
  • ডিভাইস/লেজার অপারেশনে শেপ ভালো হয় না

শেষ কথাঃ

সারকামসিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্জিকাল প্রক্রিয়া। মেডিকেল কারণে হলে বয়স কোনো বিষয় নয়, তবে ধর্মীয় কারণে সাধারণত শিশুর বয়স একটু বেশি হলে করা হয়। অভিভাবকদের উচিত অভিজ্ঞ সার্জন ও এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের কাছে অপারেশন করানো। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুর ভবিষ্যৎ স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো জটিলতা হয় না। সচেতনতা, সঠিক প্রস্তুতি এবং নিয়ম মেনে অপারেশনই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে। 250464