Pediatric Circumcision: 8 Essential Facts on Safety, Modern Techniques, and Expert Post-Care

Pediatric Circumcision: 8 Essential Facts on Safety, Modern Techniques, and Expert Post-Care

সারকামসিশন বা খতনা হলো বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং প্রচলিত একটি শল্যচিকিৎসা। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মূলত দুটি কারণে করা হয়— ধর্মীয় রীতি পালন এবং বিভিন্ন মেডিকেল সমস্যার সমাধান। যদিও অনেকে একে একটি সাধারণ প্রক্রিয়া মনে করেন, তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে একটি "কসমেটিক সার্জারি" হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কারণ, এই অপারেশনের ফলাফলের ওপর একটি শিশুর সারাজীবনের শারীরিক গঠন এবং মানসিক আত্মবিশ্বাস নির্ভর করে। একটি নিখুঁত সারকামসিশন কেবল চামড়া কেটে ফেলা নয়, বরং লিঙ্গের নান্দনিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে প্রস্রাব বা যৌনসংক্রান্ত জটিলতা প্রতিরোধ করার একটি শিল্প। এই আর্টিকেলে আমরা শিশুদের খতনার সঠিক বয়স, আধুনিক পদ্ধতি এবং অপারেশন পরবর্তী যত্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১. সারকামসিশন করার উপযুক্ত বয়স কোনটি?

খতনার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা নির্ভর করে এর উদ্দেশ্যের ওপর। যদি বাচ্চার মেডিকেল সমস্যা থাকে (যেমন— বারবার ইনফেকশন, ফাইমোসিস বা প্রস্রাব আটকে যাওয়া), তবে যেকোনো বয়সেই খতনা করা যায়। কিন্তু যদি কেবল ধর্মীয় বা সামাজিক কারণে করা হয়, তবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন বাচ্চার বয়স কিছুটা বেশি (৪ থেকে ৬ বছর) হলে করা ভালো। এই বয়সে বাচ্চার টিস্যুগুলো মজবুত হয় এবং অপারেশন পরবর্তী নিয়মকানুন মেনে চলা তাদের জন্য সহজ হয়। তবে মনে রাখতে হবে, হাইপোসপেডিয়াসের মতো জন্মগত ত্রুটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খতনা করানো একদমই উচিত নয়।

২. খতনাকে কেন একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশন হিসেবে দেখা উচিত?

অনেকে বাজার বা বাড়িতে সাধারণ লোক দিয়ে খতনা করান, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, এটি একটি অপারেশন এবং এর জন্য নিচের বিষয়গুলো আবশ্যক:

  • বিশেষজ্ঞ সার্জন: একজন শিশু সার্জন (Pediatric Surgeon) বা ইউরোলজিস্টের মাধ্যমে করালে ভুলের সম্ভাবনা থাকে না।
  • জীবাণুমুক্ত ওটি (Operation Theater): বাড়িতে খতনা করালে সংক্রমণের ঝুঁকি ১০০% বেড়ে যায়। হাসপাতালে স্টান্ডার্ড ওটিতে ইনফেকশনের ভয় থাকে না।
  • কসমেটিক সুতা: আধুনিক পদ্ধতিতে এমন সুতা ব্যবহার করা হয় যা চামড়ার ভেতরে থাকে এবং নিজে নিজেই মিশে যায়, কোনো দাগ থাকে না।
  • এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ: বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ এনেস্থেটিস্টের উপস্থিতি জরুরি।

৩. আধুনিক পদ্ধতি: ডিসেকশন নাকি লেজার/ডিভাইস?

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ডিভাইস বা তথাকথিত "লেজার" খতনার কথা শোনা যায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং নিরাপদ পদ্ধতি হলো **"Open Dissection Method"** যেখানে ডায়াথার্মি মেশিনের সাহায্যে অপারেশন করা হয়।

  • ডিসেকশন পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে সার্জন লিঙ্গের চামড়ার গঠন বুঝে সূক্ষ্মভাবে কাটেন এবং কসমেটিক সেলাই দেন। এতে রক্তপাত হয় না বললেই চলে এবং লিঙ্গের শেপ বা গঠন সবচেয়ে সুন্দর হয়।
  • ডিভাইস পদ্ধতি: রিং বা ক্ল্যাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সময় চামড়া বেশি বা কম কাটা পড়ার ঝুঁকি থাকে এবং পরবর্তী সময়ে অনেকের পুনরায় অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

৪. অজ্ঞান নাকি অবশ: কোনটি বেশি নিরাপদ?

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে পূর্ণ অজ্ঞান (General Anesthesia) বা গভীর ঘুম পাড়িয়ে অপারেশন করা সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ, বাচ্চা যদি সজাগ থাকে এবং অপারেশনের সময় ভয় পেয়ে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে, তবে সার্জনের হাত ফসকানোর ভয় থাকে। এতে লিঙ্গের সংবেদনশীল রগ বা টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে। তবে বাচ্চার বয়স যদি ৭-৮ বছরের বেশি হয় এবং সে মানসিকভাবে শক্ত থাকে, তবে কেবল জায়গাটি অবশ করে করা যেতে পারে। আধুনিক এনেস্থেসিয়া এখন অত্যন্ত নিরাপদ এবং অপারেশনের আগে বাচ্চার শারীরিক সুস্থতা পরীক্ষা করে নেওয়া হয়।

৫. অপারেশনের আগে যা জানা জরুরি

অপারেশনের আগের দিন থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়:

  • খালি পেট: অপারেশনের ৪-৫ ঘণ্টা আগে থেকে বাচ্চাকে এক ফোঁটা পানিও খাওয়ানো যাবে না। পেট ভরা থাকলে এনেস্থেসিয়ার সময় বমি হয়ে ফুসফুসে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • রুটিন পরীক্ষা: রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা এবং অন্যান্য রুটিন পরীক্ষা করে নেওয়া হয় যাতে অপারেশনের সময় কোনো সমস্যা না হয়।

৬. অপারেশন পরবর্তী যত্ন ও ড্রেসিং

অপারেশনের পর সাধারণত ১-২ দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। যত্ন নেওয়ার কিছু নিয়ম:

  • ড্রেসিং পরিবর্তন: সাধারণত ২-৩ দিন পর ড্রেসিং খুলে ফেলা হয়। এরপর হালকা লালচে ভাব বা হলুদ আবরণ দেখা দিতে পারে, যা স্বাভাবিক।
  • মলম ব্যবহার: চিকিৎসকের দেওয়া এন্টিবায়োটিক বা পেট্রোলিয়াম জেল বারবার লাগাতে হবে যাতে প্রস্রাব চামড়ায় লেগে জ্বালা না করে।
  • গোসল: সাধারণত ৪-৫ দিন পর থেকে কুসুম গরম পানিতে বাচ্চার নিম্নাঙ্গ ভিজিয়ে পরিষ্কার করা যায়।

৭. ভুল খতনার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

অদক্ষ হাতে খতনা করালে লিঙ্গ চিরতরে বিকৃত হতে পারে। অতিরিক্ত চামড়া কেটে ফেললে লিঙ্গ ছোট হয়ে যায়, আবার কম কাটলে পরবর্তীতে চামড়া টাইট হয়ে প্রস্রাবে বাধা সৃষ্টি করে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো লিঙ্গের মাথা (Glans) কেটে যাওয়া, যার ফলে বাচ্চার সারাজীবনের সক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। তাই কসমেটিক সারকামসিশন কেবল অভিজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমেই করানো উচিত।

৮. উপসংহার

সারকামসিশন বা খতনা একটি সাধারণ বিষয় মনে হলেও এটি বাচ্চার ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদ্ধতি, উন্নত সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে করালে বাচ্চা কোনো ট্রমা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠে। আপনার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য সব সময় মানের সাথে আপোষ না করে স্টান্ডার্ড ওটি এবং বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নিন। 250464