১) পরিচিতি
টেস্টিকুলার টিউমার হলো অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি, যা benign (অক্ষতিকর) বা malignant (ক্যান্সার) হতে পারে। শিশুদের মধ্যে এটি বিরল হলেও, কৈশোরে বা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে টিউমার সাধারণত ব্যথাহীন থাকে, ফলে অভিভাবকরা অনেক সময় দেরিতে বুঝতে পারেন। এজন্য সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
- বিরল: শিশুদের মধ্যে কম দেখা যায়
- Malignant ঝুঁকি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সার হতে পারে
- সময়: ১–৩ বছর বয়সে বা puberty-তে বেশি দেখা যায়
২) শ্রেণিবিন্যাস (Classification)
টেস্টিকুলার টিউমারকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয় — Prepubertal (কৈশোর-পূর্ব) এবং Postpubertal (কৈশোরোত্তর)। প্রতিটি শ্রেণির টিউমারের প্রকৃতি ও আচরণ আলাদা।
Prepubertal টিউমার
কৈশোর-পূর্ব টিউমার সাধারণত benign হয়। তবে কিছু malignant টিউমারও দেখা যায়। সবচেয়ে সাধারণ হলো Yolk sac tumor, যা prepubertal malignant টিউমারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া Teratoma সাধারণত benign হয়। অন্য benign টিউমারের মধ্যে epidermoid cyst ও Leydig cell tumor উল্লেখযোগ্য।
- Yolk sac tumor: সবচেয়ে বেশি malignant prepubertal টিউমার
- Teratoma: সাধারণত benign
- অন্যান্য: Epidermoid cyst, Leydig cell tumor
Postpubertal টিউমার
কৈশোরোত্তর টিউমার সাধারণত germ cell tumor হয় এবং অনেক সময় malignant হয়ে থাকে। এর মধ্যে Seminoma এবং Mixed germ cell tumor বেশি দেখা যায়। এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং চিকিৎসা না করলে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে।
- Seminoma: কৈশোরোত্তর malignant germ cell tumor
- Mixed germ cell tumor: একাধিক কোষের মিশ্রণে তৈরি, malignant হওয়ার ঝুঁকি বেশি
৩) লক্ষণ (Clinical Features)
টেস্টিকুলার টিউমারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো একপাশের অণ্ডকোষ বড় হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত ব্যথাহীন হয় এবং ধীরে ধীরে আকার বাড়ে। অনেক সময় শিশুর মনে ভারী লাগতে পারে বা অস্বস্তি হতে পারে। ব্যথা থাকলে তা টরশন বা হেমোরেজের কারণে হতে পারে। টেস্টিকুলার টিউমারকে Hydrocele থেকে আলাদা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো Transillumination test। Hydrocele-এ আলো দিলে ভেতরে আলো দেখা যায়, কিন্তু টিউমারে আলো দেখা যায় না।
- অণ্ডকোষ বড় হওয়া: সাধারণত ব্যথাহীন
- আকার বৃদ্ধি: ধীরে ধীরে বাড়ে
- ভারী লাগা: শিশুর অস্বস্তি
- ব্যথা: টরশন বা হেমোরেজ থাকলে
- Transillumination negative: Hydrocele-এর মতো নয়
৪) পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Investigations)
টেস্টিকুলার টিউমার নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। প্রথমেই Scrotal Ultrasound করা হয়, যেখানে solid mass বা cystic lesion দেখা যায়। এরপর Serum Tumor Markers পরীক্ষা করা হয়।
AFP (Alpha-fetoprotein) সাধারণত Yolk sac tumor-এ বেড়ে যায়। β-hCG বেড়ে যায় Choriocarcinoma বা Mixed germ cell tumor-এ। এছাড়া Chest X-ray বা CT scan করে দেখা হয় টিউমার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে গেছে কিনা। সর্বশেষে Inguinal exploration biopsy করা হয়, তবে এটি কখনোই scrotal দিয়ে করা হয় না।
- Scrotal Ultrasound: solid mass বা cystic lesion দেখা যায়
- Serum Tumor Markers: AFP ↑ (Yolk sac tumor), β-hCG ↑ (Choriocarcinoma/Mixed germ cell tumor)
- Chest X-ray/CT scan: metastasis আছে কিনা দেখা হয়
- Biopsy: Inguinal exploration, scrotal নয়
৫) চিকিৎসা (Treatment)
টেস্টিকুলার টিউমারের চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের প্রকৃতি (benign বা malignant) এবং শিশুর বয়সের ওপর। সাধারণত চিকিৎসা শুরু হয় Inguinal orchiectomy দিয়ে, অর্থাৎ অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয় groin দিয়ে। এটি করা হয় যাতে টিউমার ছড়িয়ে না পড়ে। যদি টিউমার benign প্রমাণিত হয়, তবে পরবর্তী সময়ে surveillance বা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু malignant হলে chemotherapy এবং কখনো retroperitoneal lymph node dissection (RPLND) প্রয়োজন হয়।
- Inguinal orchiectomy: অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয় groin দিয়ে
- Benign টিউমার: surveillance যথেষ্ট
- Malignant টিউমার: Chemotherapy (যেমন BEP regimen: Bleomycin, Etoposide, Cisplatin)
- RPLND: কিছু ক্ষেত্রে lymph node dissection প্রয়োজন হয়
৬) ফলো-আপ (Follow-up)
চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলো‑আপ অত্যন্ত জরুরি। এতে টিউমার পুনরায় হচ্ছে কিনা বা শরীরের অন্য অংশে ছড়াচ্ছে কিনা তা বোঝা যায়। ফলো‑আপে tumor marker monitoring করা হয়, যেমন AFP ও β-hCG। এছাড়া ultrasound বা CT scan প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর করা হয়। অন্য অণ্ডকোষও নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়, কারণ contralateral testis-এও টিউমার হতে পারে।
- Tumor marker monitoring: AFP, β-hCG
- Imaging: Ultrasound/CT scan প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর
- Contralateral testis: নিয়মিত পরীক্ষা
৭) প্রগনোসিস (Prognosis)
টেস্টিকুলার টিউমারের প্রগনোসিস নির্ভর করে টিউমারের ধরন ও চিকিৎসার সময়ের ওপর। Prepubertal benign টিউমারের prognosis খুব ভালো। Malignant germ cell tumor-ও আজকাল chemotherapy-র কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে curable। তবে দেরি করলে বা টিউমার ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। তাই সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
- Prepubertal benign টিউমার: prognosis খুব ভালো
- Malignant germ cell tumor: chemotherapy-র কারণে curable
- দেরি করলে: prognosis খারাপ হতে পারে
৮) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ
শিশুর অণ্ডকোষ বড় হয়ে গেলে বা অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে অভিভাবকদের উচিত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া। অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন এটি Hydrocele বা সাধারণ ফোলা, কিন্তু টেস্টিকুলার টিউমার আলাদা এবং বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা ঘরোয়া চিকিৎসা করা উচিত নয়। অপারেশনের পর শিশুকে নিয়মিত ফলো‑আপে নিয়ে যেতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা শিশুর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ডাক্তার দেখান: অণ্ডকোষ বড় হলে দ্রুত
- নিজে চিকিৎসা নয়: ওষুধ বা ঘরোয়া চিকিৎসা এড়িয়ে চলুন
- ফলো‑আপ: নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ
- সচেতনতা: অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৯) অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর (FAQs)
অভিভাবকদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে অপারেশন নিয়ে। সাধারণত অপারেশন groin দিয়ে করা হয়, scrotal দিয়ে নয়। এতে টিউমার ছড়ানোর ঝুঁকি কমে। অপারেশনের পর কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়, তাই দাগ থাকে না। সেলাই কাটার প্রয়োজন হয় না। অপারেশনের পরদিন থেকেই শিশুর স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব হয়। অপারেশন করতে সাধারণত ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে। ভবিষ্যতে শিশুর যৌন সমস্যা বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না। অপারেশন করার সময় অজ্ঞান দেওয়া হয়, যা অভিজ্ঞ এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিরাপদভাবে করা হয়।
- অপারেশন পদ্ধতি: groin দিয়ে, scrotal নয়
- দাগ: থাকে না, কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়
- সেলাই কাটার প্রয়োজন: নেই
- চলাফেরা: অপারেশনের পরদিন থেকেই সম্ভব
- সময়: ৩০–৪০ মিনিট
- ভবিষ্যৎ সমস্যা: যৌন বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হয় না
- অজ্ঞান: অভিজ্ঞ এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ
১০) শেষ কথাঃ
টেস্টিকুলার টিউমার শিশুদের মধ্যে বিরল হলেও বিপজ্জনক হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি curable। অভিভাবকদের উচিত শিশুর অণ্ডকোষে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। সচেতনতা, সঠিক পরীক্ষা‑নিরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসাই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে। 250464
