১) ধরন (Types of Polydactyly)
পলিড্যাক্টাইলিকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
- Preaxial: বুড়ো আঙুল বা বড় আঙুলের পাশে অতিরিক্ত আঙুল থাকে।
- Postaxial: ছোট আঙুলের পাশে অতিরিক্ত আঙুল থাকে। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
- Central: মাঝের আঙুলগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত আঙুল থাকে। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল।
এই ধরনগুলো নির্ভর করে অতিরিক্ত আঙুল কোন অবস্থানে আছে তার উপর। Postaxial polydactyly সবচেয়ে সাধারণ এবং অনেক সময় শুধু নরম টিস্যু দিয়ে ঝুলে থাকে।
২) ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্য (Clinical Features)
পলিড্যাক্টাইলি জন্মের সময়ই দৃশ্যমান হয়। অতিরিক্ত আঙুল কখনো শুধু চামড়া ও নরম টিস্যু দিয়ে ঝুলে থাকে (pedunculated), আবার কখনো হাড়সহ সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়। হাতে হলে শিশুর গ্রিপে অসুবিধা হয়, আর পায়ে হলে জুতা পরতে সমস্যা হয়। অতিরিক্ত আঙুলের আকার ও গঠন ভিন্ন হতে পারে — কখনো ছোট ও অকার্যকর, আবার কখনো প্রায় স্বাভাবিক আঙুলের মতো।
- জন্মের সময়ই দৃশ্যমান
- অতিরিক্ত আঙুল নরম টিস্যু দিয়ে ঝুলে থাকতে পারে
- কখনো হাড়সহ সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়
- হাতে হলে গ্রিপে অসুবিধা
- পায়ে হলে জুতা পরতে সমস্যা
৩) কারণ (Causes)
পলিড্যাক্টাইলির কারণ বিভিন্ন হতে পারে। এটি সাধারণত জেনেটিক কারণে হয়। অনেক সময় এটি autosomal dominant inheritance-এর মাধ্যমে পরিবারে দেখা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি জেনেটিক সিন্ড্রোমের অংশ হিসেবে দেখা দেয়, যেমন Ellis-van Creveld syndrome বা Bardet-Biedl syndrome।এছাড়া ভ্রূণের বিকাশজনিত ত্রুটি বা পরিবেশগত কারণেও এটি হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি isolated congenital anomaly হিসেবে দেখা যায়।
- জেনেটিক কারণ (autosomal dominant inheritance)
- জেনেটিক সিন্ড্রোমের অংশ হিসেবে
- ভ্রূণের বিকাশজনিত ত্রুটি
- পরিবেশগত কারণ
৪) নির্ণয় (Diagnosis)
পলিড্যাক্টাইলি সাধারণত জন্মের পর শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসক শিশুর হাত-পা দেখে অতিরিক্ত আঙুলের অবস্থান ও গঠন নির্ধারণ করেন।
এক্স-রে (X-ray): হাড়ের গঠন দেখা যায় এবং বোঝা যায় আঙুলটি শুধু নরম টিস্যু দিয়ে ঝুলে আছে নাকি হাড়সহ সম্পূর্ণভাবে গঠিত।
Genetic evaluation: যদি সন্দেহ থাকে যে এটি কোনো সিন্ড্রোমের অংশ, তবে genetic evaluation করা হয়।
- শারীরিক পরীক্ষা
- এক্স-রে দিয়ে হাড়ের গঠন দেখা
- সন্দেহ থাকলে genetic evaluation
৫) প্রতিরোধ ও সচেতনতা (Prevention & Awareness)
পলিড্যাক্টাইলি প্রতিরোধের নির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই, কারণ এটি মূলত জেনেটিক কারণে হয়। তবে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলে অনেক সময় জন্মের আগেই এটি শনাক্ত করা যায়।অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে যে এটি ভয়াবহ কোনো রোগ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি isolated anomaly এবং শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনে বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে হাত বা পায়ের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- প্রতিরোধের নির্দিষ্ট উপায় নেই
- গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে শনাক্ত করা যায়
- অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি
- চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত
৬) চিকিৎসা (Treatment)
পলিড্যাক্টাইলির চিকিৎসা সাধারণত সার্জিক্যাল। অতিরিক্ত আঙুল যদি শুধু নরম টিস্যু দিয়ে ঝুলে থাকে, তবে জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই এটি কেটে ফেলা যায়। কিন্তু যদি আঙুলটি হাড়সহ সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়, তবে শিশুর বয়স অন্তত ১ বছর হওয়ার পর সার্জারি করা ভালো। এতে হাত বা পায়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা যায়।
- নরম টিস্যুর ঝুলন্ত আঙুল জন্মের পর কয়েক মাসেই কেটে ফেলা যায়
- হাড়সহ আঙুল হলে ১ বছর বয়সের পর সার্জারি করা ভালো
- লক্ষ্য: হাত/পায়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা
৭) সার্জারি ও পুনর্গঠন (Surgery & Reconstruction)
সার্জারির সময় অতিরিক্ত আঙুল সরিয়ে দেওয়া হয় এবং আশেপাশের টিস্যু পুনর্গঠন করা হয়। যদি আঙুলটি হাড়সহ সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়, তবে হাড়, টেন্ডন ও লিগামেন্ট সঠিকভাবে সংশোধন করতে হয়। সার্জারির পর শিশুর হাত বা পায়ের কার্যকারিতা সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে কসমেটিক কারণে সার্জারি করা হয়, যাতে হাত বা পা দেখতে স্বাভাবিক লাগে।
- অতিরিক্ত আঙুল সরানো
- হাড়, টেন্ডন ও লিগামেন্ট সংশোধন
- কসমেটিক কারণে সার্জারি
৮) ফলো‑আপ (Follow-up)
সার্জারির পর শিশুর হাত বা পায়ের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ফলো‑আপে দেখা হয় শিশুর গ্রিপ, হাঁটা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। কিছু ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে, যাতে শিশুর হাত বা পায়ের মুভমেন্ট স্বাভাবিক থাকে।
- গ্রিপ ও হাঁটার ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ
- দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা হচ্ছে কিনা দেখা
- প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি
৯) প্রগনোসিস (Prognosis)
অধিকাংশ ক্ষেত্রে পলিড্যাক্টাইলির ফল খুব ভালো। যদি এটি কোনো সিন্ড্রোমের অংশ না হয়, তবে শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। সার্জারির পর হাত বা পায়ের কার্যকারিতা সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়।তবে যদি এটি জেনেটিক সিন্ড্রোমের অংশ হয়, তবে অন্যান্য জটিলতা থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফল খুব ভালো
- সিন্ড্রোমের অংশ না হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব
- সার্জারির পর কার্যকারিতা স্বাভাবিক হয়
১০) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ (Advice for Parents)
অভিভাবকদের উচিত শিশুর জন্মের পরপরই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া। অতিরিক্ত আঙুল থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ এটি সাধারণত সহজেই চিকিৎসাযোগ্য। অভিভাবকদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে এবং শিশুকে সমর্থন দিতে হবে। সার্জারির পর নিয়মিত ফলো‑আপ করানো জরুরি।
- শিশুকে জন্মের পরপরই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত আঙুল থাকলে ভয় না পাওয়া
- সার্জারির পর নিয়মিত ফলো‑আপ করানো
- শিশুকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া
শেষ কথাঃ (Conclusion)
পলিড্যাক্টাইলি হলো একটি জন্মগত অবস্থা, যেখানে শিশুর হাত বা পায়ে অতিরিক্ত আঙুল থাকে। এটি সাধারণত ভয়াবহ কোনো রোগ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সার্জারির মাধ্যমে সহজেই সংশোধন করা যায়। সময়মতো চিকিৎসা ও ফলো‑আপের মাধ্যমে শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব। 250464
