পেরিএনাল অ্যাবসেস (Perianal Abscess):৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক মলদ্বারে ফোঁড়া — কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও জটিলতা

পেরিএনাল অ্যাবসেস (Perianal Abscess):৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক মলদ্বারে ফোঁড়া — কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও জটিলতা

পেরিএনাল অ্যাবসেস হলো পায়ুপথের চারপাশের চামড়ার নিচে পুঁজ জমে যাওয়া। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয় এবং শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে ছেলেশিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যখন পায়ুপথের চারপাশে সংক্রমণ হয়, তখন সেখানে প্রদাহ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে ফোঁড়া হয়। এই ফোঁড়া শিশুর জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং বেদনাদায়ক হয়।                                                                            

অনেক সময় শিশুরা কান্নাকাটি করে, খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় এবং মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা অনুভব করে। পেরিএনাল অ্যাবসেসকে অবহেলা করলে এটি আরও জটিল হয়ে ফিস্টুলা ইন অ্যানোতে পরিণত হতে পারে। শিশুর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই অভিভাবকদের উচিত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।

.১) কেন হয়? (Causes)

পেরিএনাল অ্যাবসেস হওয়ার প্রধান কারণ হলো পায়ুপথের গ্রন্থিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া। যখন এই গ্রন্থি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন সেখানে প্রদাহ তৈরি হয় এবং পুঁজ জমে যায়। এছাড়া ডায়াপার র‍্যাশ বা ত্বকের ছোট কাটা জায়গা দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করলে অ্যাবসেস হতে পারে। অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ঘন ঘন জোর করে পায়খানা করার ফলে পায়ুপথে চাপ পড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের নাজুক ত্বক ও প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে এ ধরনের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পেরিএনাল অ্যাবসেস হওয়ার প্রধান কারণ হলো পায়ুপথের গ্রন্থিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া। এছাড়া ডায়াপার র‍্যাশ বা ত্বকের ছোট কাটা জায়গা দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করলে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অতিরিক্ত চাপ পড়লে এ সমস্যা দেখা দেয়।

  • পায়ুপথের গ্রন্থিতে (anal gland) সংক্রমণ ছড়ানো
  • ডায়াপার র‍্যাশ বা ত্বকের কাটা জায়গা দিয়ে জীবাণু প্রবেশ
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঘন ঘন জোর করে পায়খানা করা

২) লক্ষণ (Symptoms)

পেরিএনাল অ্যাবসেস হলে আক্রান্ত স্থানে লালচে ফোলা হয় এবং ব্যথা অনুভূত হয়। শিশুটি কান্নাকাটি করে, বিশেষত মলত্যাগের সময়। অনেক সময় হালকা জ্বর হয় এবং ফোঁড়া ফেটে গেলে পুঁজ বের হয়। এসব লক্ষণ অভিভাবকদের জন্য সতর্ক সংকেত, যা অবহেলা করা উচিত নয়। শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়—সে অস্থির হয়ে পড়ে, খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনেক সময় হালকা জ্বর হয় এবং ফোঁড়া ফেটে গেলে পুঁজ বের হয়। এসব লক্ষণ অভিভাবকদের জন্য সতর্ক সংকেত।

  • পায়ুপথের চারপাশে লালচে ফোলা 
  • ব্যথাযুক্ত ফোলা
  • শিশুর কান্নাকাটি, বিশেষত মলত্যাগের সময়
  • হালকা জ্বর
  • পুঁজ নিঃসরণ (ফোঁড়া ফেটে গেলে)

৩) ডাক্তার যেভাবে নির্ণয় করেন (Diagnosis)

ডাক্তার প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা করেন। আক্রান্ত স্থানের ফোলা, লালচে ভাব ও পুঁজ জমার লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করেন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড করে ফোঁড়ার গভীরতা ও পুঁজ জমার পরিমাণ বোঝা হয়। সঠিকভাবে নির্ণয় করলে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা সহজ হয় এবং জটিলতা এড়ানো যায়।

  • শারীরিক পরীক্ষা
  • আল্ট্রাসাউন্ড (প্রয়োজনে)

৪) চিকিৎসা (Treatment)

চিকিৎসায় প্রথমে পুঁজ বের করে দেওয়া হয়। সাধারণত Incision and Drainage (I&D) নামক একটি ছোট সার্জারি করে পুঁজ বের করা হয়। এতে ফোঁড়ার চাপ কমে যায় এবং শিশুর ব্যথা কমে আসে। এরপর অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। হিপবাথ (উষ্ণ পানিতে ভায়োডিন মিশিয়ে বসে পরিষ্কার করা) করা হয়, যা আক্রান্ত স্থানকে পরিষ্কার রাখে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সাহায্য করে। শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে পর্যাপ্ত তরল ও আঁশযুক্ত খাবার দেওয়া জরুরি। একজন শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ অপারেশনের সময়কাল ও ফলাফল সম্পর্কে পরামর্শ দেন এবং অপারেশন পরিচালনা করেন।

  • Incision and Drainage (I&D)
  • অ্যান্টিবায়োটিক
  • হিপবাথ (উষ্ণ পানিতে ভায়োডিন মিশিয়ে পরিষ্কার করা)

৫) জটিলতা (Complications)

চিকিৎসা না করলে পেরিএনাল অ্যাবসেস আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পুঁজ অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক সময় এটি ফিস্টুলা ইন অ্যানোতে পরিণত হয়, যেখানে অ্যাবসেস থেকে পায়ুপথে একটি ছোট পথ তৈরি হয়। যদি পুনরায় পুঁজ হয় বা ফিস্টুলা গঠিত হয়, তবে definitive surgery (fistulotomy) করতে হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে শিশুর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় এবং পুনঃপুনঃ সংক্রমণ দেখা দেয়। 

  • পুঁজ অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া
  • ফিস্টুলা ইন অ্যানোতে পরিণত হওয়া
  • Recurrence হলে definitive surgery প্রয়োজন

অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

শিশুর পায়ুপথের চারপাশে কোনো ফোলা বা লালচে ভাব দেখা দিলে দেরি না করে শিশুসার্জনের কাছে যান। নিজে থেকে ফোঁড়া ফাটানোর চেষ্টা করবেন না, কারণ এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করুন। শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে রাখুন, যাতে মলত্যাগ সহজ হয়

শেষ কথাঃ

পেরিএনাল অ্যাবসেস শিশুদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি অবহেলা করলে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব। অভিভাবকদের উচিত শিশুর প্রতিটি লক্ষণ গুরুত্বের সাথে দেখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।মনে রাখুন: শিশুর পায়ুপথে ফোলা বা পুঁজ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। 250464