১) লক্ষণ (Symptoms)
ওম্ফালাইটিসের লক্ষণগুলো সহজেই চেনা যায়। নবজাতকের নাভি ও আশেপাশের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
- নাভির চারপাশে লালচে ভাব (redness)
- ফোলা ও গরম অনুভূত হওয়া
- দুর্গন্ধযুক্ত বা পুঁজযুক্ত স্রাব (discharge)
- জ্বর বা খাওয়ায় অনীহা
- শিশুটি অস্থির বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া
এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না, কারণ সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২) কারণ (Causes)
ওম্ফালাইটিসের প্রধান কারণ হলো নাভি কাটার সময় বা পরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
- নাভির কর্ড কাটার সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
- ঘরোয়া ওষুধ, ছাই, তেল, গুঁড়ো ইত্যাদি নাভিতে লাগানো
- অপরিষ্কার হাত বা যন্ত্র ব্যবহার
- অপরিণত শিশু (premature baby) — এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
এই কারণগুলো এড়ানো গেলে নবজাতকের নাভি সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৩) ঝুঁকিপূর্ণ শিশু (High-risk Babies)
সব শিশু সমানভাবে আক্রান্ত হয় না। কিছু শিশুদের ঝুঁকি বেশি থাকে:
- অপরিণত শিশু (premature baby)
- কম ওজনের শিশু
- যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জন্ম নেওয়া শিশু
এই শিশুদের ক্ষেত্রে নাভি সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেপসিসের ঝুঁকি বেশি থাকে।
৪) জটিলতা (Complications)
ওম্ফালাইটিস চিকিৎসা না করলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
- সেপসিস (রক্তে সংক্রমণ)
- শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া
- মৃত্যুর ঝুঁকি
তাই নাভি সংক্রমণকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি।
৫) প্রতিরোধ (Prevention)
ওম্ফালাইটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি নাভির সঠিক যত্ন নেওয়া হয়।
- নাভি শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে
- নাভিতে কোনো তেল, পাউডার বা ঘরোয়া জিনিস লাগানো যাবে না
- শুধুমাত্র পরিষ্কার, শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন
- নাভি না পড়া পর্যন্ত জল স্পর্শ এড়িয়ে চলুন (শুধু মুছে দিন)
- ডেলিভারির সময় স্টেরাইল যন্ত্র ব্যবহার জরুরি
অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিক নির্দেশনা মেনে চললে নবজাতকের নাভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।
৬) চিকিৎসা (Treatment)
ওম্ফালাইটিস একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। তাই শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেপসিস প্রতিরোধ করা।
- তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি
- ইন্ট্রাভেনাস (IV) অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া
- গুরুতর হলে রক্ত পরীক্ষা ও কালচার করা
- সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার
অভিভাবকদের উচিত শিশুর নাভি সংক্রমণকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।
৭) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা (Hospital Management)
হাসপাতালে শিশুর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
- শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ও শ্বাসপ্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ
- রক্ত পরীক্ষা করে সংক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ
- প্রয়োজনে স্যালাইন ও অন্যান্য সাপোর্টিভ কেয়ার
- শিশুর নাভি পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (ICU) রাখা হতে পারে।
৮) ফলো‑আপ (Follow-up)
চিকিৎসার পর শিশুর নাভি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
- নাভি শুকনো ও পরিষ্কার রাখা
- কোনো স্রাব বা লালচে ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া
- শিশুর খাওয়া‑দাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ
- প্রয়োজনে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা
৯) প্রগনোসিস (Prognosis)
সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে অধিকাংশ শিশুর অবস্থা ভালো হয়ে যায়। তবে চিকিৎসা দেরি হলে সংক্রমণ সেপসিসে পরিণত হতে পারে, যা প্রাণঘাতী।
- সময়মতো চিকিৎসা করলে ফল ভালো
- দেরি হলে সেপসিসের ঝুঁকি
- অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি
১০) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ (Advice for Parents)
অভিভাবকদের উচিত নবজাতকের নাভি সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা। কোনো ঘরোয়া ওষুধ, তেল বা পাউডার ব্যবহার করা যাবে না। নাভি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। শিশুকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া এবং সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
- নাভি পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
- ঘরোয়া কোনো পদার্থ ব্যবহার না করা
- লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া
- শিশুকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া
শেষ কথাঃ (Conclusion)
ওম্ফালাইটিস হলো নবজাতকের নাভি সংক্রমণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে গিয়ে সেপসিস ঘটাতে পারে। এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে। সঠিক যত্ন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। 250464
