১) কারণ
ল্যাবিয়াল অ্যাডহেশনের প্রধান কারণ হলো ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব। ছোট মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম থাকায় ল্যাবিয়ার ভেতরের অংশ শুকনো হয়ে যায় এবং একে অপরের সাথে লেগে যেতে পারে। এছাড়া ইনফেকশন বা সংক্রমণ এবং ভালোভাবে পরিষ্কার না রাখার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় আঘাত বা প্রদাহও ল্যাবিয়াল ফিউশনের কারণ হতে পারে। তাই এটি জন্মগত বা অর্জিত উভয় কারণেই হতে পারে।
- ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব: প্রধান কারণ
- সংক্রমণ: মূত্রনালী বা যোনিপথে ইনফেকশন
- পরিচ্ছন্নতার অভাব: ভালোভাবে পরিষ্কার না রাখা
২) লক্ষণ
অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে ল্যাবিয়াল অ্যাডহেশন কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না এবং রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয়, বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ দেখা দেয় এবং মাসিকের রাস্তার আশেপাশে অস্বস্তি বা চুলকানি হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় মূত্রনালীর মুখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা শিশুর জন্য বিপজ্জনক।
- প্রস্রাবের সমস্যা: প্রস্রাব করতে অসুবিধা
- বারবার সংক্রমণ: মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)
- অস্বস্তি: মাসিকের রাস্তার আশেপাশে চুলকানি বা অস্বস্তি
৩) চিকিৎসা
ল্যাবিয়াল অ্যাডহেশনের চিকিৎসা নির্ভর করে এর তীব্রতার ওপর। প্রথম ধাপে টপিকাল স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ধীরে ধীরে ল্যাবিয়াকে আলাদা করতে সাহায্য করে। তবে শুধু ক্রিম ব্যবহার করলে সমস্যা ভালো হতে অনেক সময় লাগে এবং পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি ক্রিম ব্যবহার করেও ভালো ফল না পাওয়া যায় অথবা ফিউশন গুরুতর হয়, যেমন মূত্রনালীর মুখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। অস্ত্রোপচার একটি নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি, যেখানে ল্যাবিয়াকে আলাদা করা হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
- টপিকাল ক্রিম: প্রথম ধাপের চিকিৎসা
- অপারেশন: গুরুতর অবস্থায় অস্ত্রোপচার করে ল্যাবিয়া আলাদা করা
- পরিচ্ছন্নতা: শিশুকে সবসময় পরিষ্কার রাখা
শেষ কথাঃ
মাসিকের রাস্তা জোড়া বা ল্যাবিয়াল অ্যাডহেশন শিশুদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তবে গুরুতর অবস্থায় প্রস্রাবের সমস্যা ও সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা করলে এটি সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে যায়। অভিভাবকদের উচিত শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
মনে রাখুন: শিশুর প্রস্রাবের সমস্যা বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। 250464
