ইন্টাসসাসসেপশন (Intussusception): ৫টি প্রধান দিক — কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও সতর্কতা

 

ইন্টাসসাসসেপশন (Intussusception): ৫টি প্রধান দিক — কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও সতর্কতা

ইন্টাসসাসসেপশন হলো একটি গুরুতর শিশু রোগ যেখানে অন্ত্রের একটি অংশ পাশের অন্ত্রের ভেতরে ঢুকে যায়। এর ফলে অন্ত্রের রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে, অন্ত্র ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয় এবং রক্তযুক্ত মল দেখা দেয়। এটি সাধারণত ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। বুকের দুধ না খেয়ে গরুর দুধ বা কৌটার দুধ খেলে ঝুঁকি বেশি থাকে। অনেক সময় ভাইরাস সংক্রমণের (বিশেষ করে রোটাভাইরাস বা অ্যাডেনোভাইরাস) পরেও হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই (idiopathic) দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি জীবন-সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।

১) কারা বেশি আক্রান্ত হয়

ইন্টাসসাসসেপশন সাধারণত ছোট শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং এটি একটি জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশু। এই বয়সে অন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতা এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, ফলে অন্ত্রের একটি অংশ অন্য অংশের ভেতরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বুকের দুধ না খেয়ে গরুর দুধ বা কৌটার দুধ খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ মায়ের দুধে থাকা প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুকে অনেক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অনেক সময় ভাইরাস সংক্রমণের পরেও এই রোগ দেখা দেয়, বিশেষ করে রোটাভাইরাস বা অ্যাডেনোভাইরাসের সংক্রমণের পর। তবে সবসময় কোনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না—এটিকে বলা হয় idiopathic। অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি, কারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ পেট ব্যথার মতো মনে হতে পারে।

ইন্টাসসাসসেপশন-(Intussusception):-৫টি-প্রধান-দিক — কারণ,-লক্ষণ,-পরীক্ষা,-চিকিৎসা-ও-সতর্কতা

ইন্টাসসাসসেপশন সাধারণত ছোট শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের ঝুঁকি বেশি। বুকের দুধ না খেয়ে গরুর দুধ বা কৌটার দুধ খেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভাইরাস সংক্রমণ যেমন রোটাভাইরাস বা অ্যাডেনোভাইরাসের পরেও এটি হতে পারে। তবে অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই (idiopathic) দেখা দেয়। অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি, কারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ পেট ব্যথার মতো মনে হতে পারে।

  • ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি হয়
  • বুকের দুধ না খেয়ে গরুর দুধ/কৌটার দুধ খেলে ঝুঁকি বেশি
  • ভাইরাস সংক্রমণের পর হতে পারে (রোটাভাইরাস, অ্যাডেনোভাইরাস)
  • কখনও কোনো কারণ ছাড়াই (idiopathic) হয়

২) লক্ষণ (Symptoms)

ইন্টাসসাসসেপশনের লক্ষণগুলো বেশ নাটকীয় এবং দ্রুত প্রকাশ পায়। শিশুটি হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথায় কাঁদতে শুরু করে, পেট মুচড়ে ধরে এবং কিছু সময় পর আবার শান্ত হয়। এই ব্যথা আসা-যাওয়া করে, যাকে বলা হয় colicky pain। বমি হয়—প্রথমে দুধ বা খাবারের, পরে পিত্তযুক্ত বমি হতে পারে। সবচেয়ে ক্লাসিক লক্ষণ হলো রক্তযুক্ত মল, যাকে “Red currant jelly stool” বলা হয়। এতে রক্ত ও মিউকাস থাকে, যা রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর পেট ফুলে যায় এবং ডান দিকের মাঝামাঝি জায়গায় সসেজের মতো ফোলা lump পাওয়া যেতে পারে। শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়ে, কখনও শকের লক্ষণ দেখা দেয়—ঠান্ডা হয়ে যায়, ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে, দ্রুত শ্বাস নেয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ দেরি করলে অন্ত্রের রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

লক্ষণগুলো চিনতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুটি হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথায় কাঁদতে শুরু করে, পেট মুচড়ে ধরে, আবার কিছু সময় শান্ত হয়। এই ব্যথা আসা-যাওয়া করে। বমি হয়—প্রথমে দুধ বা খাবারের, পরে পিত্তযুক্ত বমি হতে পারে। সবচেয়ে ক্লাসিক লক্ষণ হলো রক্তযুক্ত মল, যাকে “Red currant jelly stool” বলা হয়। এতে রক্ত ও মিউকাস থাকে। শিশুর পেট ফুলে যায় এবং ডান দিকের মাঝামাঝি জায়গায় সসেজের মতো ফোলা lump পাওয়া যেতে পারে। শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়ে, কখনও শকের লক্ষণ দেখা দেয়—ঠান্ডা, ফ্যাকাসে, দ্রুত শ্বাস।

  • হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা (Colicky pain)
  • ব্যথা আসা-যাওয়া করে
  • বমি (প্রথমে খাবার, পরে পিত্তযুক্ত)
  • রক্তযুক্ত মল (Red currant jelly stool)
  • পেট ফুলে যাওয়া
  • সসেজ-আকৃতির lump পাওয়া যেতে পারে
  • শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে, শকের লক্ষণ দেখা দেয়

৩) পরীক্ষা‑নিরীক্ষা (Diagnosis)

ইন্টাসসাসসেপশন শনাক্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG)। এতে “Target sign” বা “Doughnut sign” দেখা যায়, যা এই রোগের ক্লাসিক ইমেজিং ফাইন্ডিং। এক্স-রে তে অন্ত্র ফুলে থাকা বা গ্যাসের ছায়া দেখা যায়, যা রোগের ইঙ্গিত দেয়। ব্লাড টেস্টে ডিহাইড্রেশন বা ইনফেকশনের লক্ষণ খোঁজা হয়। শারীরিক পরীক্ষায় ডাক্তার শিশুর পেটে সসেজ-আকৃতির lump অনুভব করতে পারেন। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করলে রোগ দ্রুত শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা শুরু করা যায়। অভিভাবকদের উচিত শিশুর লক্ষণগুলো দ্রুত চিনে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, যাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ডায়াগনসিসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG)। এতে “Target sign” বা “Doughnut sign” দেখা যায়, যা ইন্টাসসাসসেপশনের ক্লাসিক ইমেজিং ফাইন্ডিং। এক্স-রে তে অন্ত্র ফুলে থাকা বা গ্যাসের ছায়া দেখা যায়। ব্লাড টেস্টে ডিহাইড্রেশন বা ইনফেকশনের লক্ষণ খোঁজা হয়। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করলে রোগ দ্রুত শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা শুরু করা যায়।

  • USG: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, “Target sign” বা “Doughnut sign” দেখা যায়
  • X-ray: অন্ত্র ফুলে থাকা বা গ্যাসের ছায়া দেখা যায়
  • ব্লাড টেস্ট: ডিহাইড্রেশন বা ইনফেকশনের লক্ষণ খোঁজা হয়

৪) চিকিৎসা (Treatment)

চিকিৎসা দুইভাবে হয়—নন-সার্জিকাল ও সার্জিকাল। যদি অন্ত্র না ফেটে থাকে, তবে নন-সার্জিকাল চিকিৎসা করা হয়। Air enema বা contrast enema (বেরিয়াম বা স্যালাইন দিয়ে) দেওয়া হয়। এটি একই সঙ্গে diagnostic ও therapeutic—অর্থাৎ এতে রোগ শনাক্তও হয়, আবার অনেক সময় অন্ত্র আবার ঠিক জায়গায় চলে আসে। যদি নন-সার্জিকাল চিকিৎসা ব্যর্থ হয় বা অন্ত্র ফেটে যায়, তবে সার্জিকাল চিকিৎসা করতে হয়। অপারেশনে অন্ত্র বের করে স্বাভাবিক করা হয়। যদি অন্ত্রের অংশ পচে যায় (gangrene), তবে সেটি কেটে বাদ দেওয়া হয়। ভালো অন্ত্র জোড়া লাগানো হয়, অথবা প্রয়োজনে স্টোমা করে রাখা হয়। চিকিৎসায় দেরি করলে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়।

  • নন-সার্জিকাল চিকিৎসা: Air enema বা contrast enema
  • এটি diagnostic ও therapeutic দুটোই
  • সার্জিকাল চিকিৎসা: নন-সার্জিকাল ব্যর্থ হলে বা অন্ত্র ফেটে গেলে
  • অন্ত্র বের করে স্বাভাবিক করা হয়
  • অন্ত্রের অংশ পচে গেলে কেটে বাদ দেওয়া হয়
  • ভালো অন্ত্র জোড়া লাগানো হয় বা স্টোমা করা হয়

৫) সতর্কতা ও জটিলতা

চিকিৎসায় দেরি করলে অন্ত্রের রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্ত্র পচে যেতে পারে (gangrene)। এটি জীবন-সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়ে, শকের লক্ষণ দেখা দেয়। তাই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। একজন শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ অপারেশনের সময়কাল ও ফলাফল সম্পর্কে পরামর্শ দেন এবং অপারেশন পরিচালনা করেন। অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হয় এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

  • সায় দেরি করলে অন্ত্র পচে যেতে পারে
  • জীবন-সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে
  • দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি
  • শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ অপারেশন পরিচালনা করেন

শেষ কথাঃ

ইন্টাসসাসসেপশন একটি গুরুতর শিশু রোগ যা দ্রুত জটিল হয়ে যেতে পারে। প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা, বমি, রক্তযুক্ত মল এবং পেট ফুলে যাওয়া। USG সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। চিকিৎসা নন-সার্জিকাল বা সার্জিকাল হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব। অভিভাবকদের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই শিশুর নিরাপত্তার মূল।

মনে রাখো: শিশুর হঠাৎ পেট ব্যথা, বমি বা রক্তযুক্ত মল কখনোই অবহেলা করো না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই নিরাপদ। 250464