Cephalhematoma (সেফালোহিমাটোমা): নবজাতকের মাথায় রক্ত জমে ফোলা — ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

Cephalhematoma (সেফালোহিমাটোমা): নবজাতকের মাথায় রক্ত জমে ফোলা — ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

Cephalhematoma হলো নবজাতকের মাথার খুলি (স্কাল) এবং periosteum (হাড়ের উপর পাতলা আবরণ)-এর মাঝখানে রক্ত জমে ফোলা হওয়ার অবস্থা। এটি সাধারণত কঠিন বা দীর্ঘ প্রসবের পরে দেখা যায়, এবং বিশেষ করে যোনিপথে (vaginal) প্রসবের সময় মাথার উপর ধারাবাহিক চাপ পড়লে রক্তনালী (ভেইন) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে bleeding হয়। Cephalhematoma ও Caput Succedaneum–কে অনেক সময় অভিভাবকরা একই মনে করেন, কিন্তু দুটির অবস্থান, ক্লিনিক্যাল লক্ষণ, গতিপ্রকৃতি ও জটিলতা আলাদা। Cephalhematoma সাধারণত জন্মের পরে কয়েক ঘণ্টায় স্পষ্ট হয়, সীমানা-নির্দিষ্ট (suture line cross করে না), এবং স্পর্শে নরম/স্পঞ্জি অনুভূত হয়; Caput Succedaneum ত্বকের ঠিক নিচে এডিমা (fluid swelling), জন্মের সময়ই দেখা যায়, স্যুচার লাইন পার হয়ে যায়, এবং তাড়াতাড়ি কমে।

অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেখলেই ভয় পাওয়া—“মাথায় ফোলা, বাচ্চার মস্তিষ্কে সমস্যা?” বাস্তবে Cephalhematoma সাধারণত মস্তিষ্ক বা মাথার হাড়ে গভীর ক্ষতি করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই ধীরে ধীরে রক্ত শোষিত হয়ে (resorption) কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে কমে যায়। তবে বড় সেফালোহিমাটোমায় রক্তের ভাঙনের ফলে বিলিরুবিন বেড়ে জন্ডিস (hyperbilirubinemia), কখনও অ্যানিমিয়া, খুব বিরল ক্ষেত্রে ইনফেকশন বা ক্যালসিফিকেশন হতে পারে—তাই পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

২) মৌলিক ধারণা ও এনাটমি (Basic concept & anatomy)

Cephalhematoma হলো subperiosteal hemorrhage—অর্থাৎ খুলি হাড়ের উপর থাকা periosteum-এর নিচে রক্ত জমা। এই স্পেসটি প্রতিটি হাড়ের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাই ফোলা “suture line” অতিক্রম করে না। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পারিয়েটাল হাড়ে, কারণ প্রসবের সময় এই অংশটি প্রথমে বের হয় এবং চাপের প্রভাব বেশি পড়ে। Caput Succedaneum-এর ক্ষেত্রে রক্ত নয়, ত্বকের নিচে সারফেসিয়াল টিস্যুতে edema হয়, আর Subgaleal hemorrhage হয় galea aponeurotica-এর নিচে—এটি সবচেয়ে গুরুতর, দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শকের ঝুঁকি থাকে।

  • লোকেশন: Subperiosteal (হাড়ের উপর পাতলা আবরণের নিচে)
  • সীমানা: Suture line অতিক্রম করে না (হাড়ভিত্তিক সীমাবদ্ধ)
  • সর্বাধিক হাড়: Parietal bone
  • ডিফারেন্সিয়েশন: Caput (ত্বকের নিচে edema), Subgaleal (গভীর, বিস্তৃত hemorrhage)

৩) কারণ (Causes)

প্রধান কারণ হলো প্রসবের সময় মাথায় ক্রমাগত বা অতিরিক্ত চাপ। দীর্ঘায়িত labor, কঠিন vaginal delivery, ফোর্সেপ বা ভ্যাকুয়াম অ্যাসিস্টেড ডেলিভারি, বড় বাচ্চা (macrosomia), মায়ের পেলভিক গঠন সীমিত, অস্বাভাবিক fetal position—এগুলো ছোট শিরা/ভেইন ক্ষতিগ্রস্ত করে subperiosteal স্পেসে রক্তপাত ঘটায়। সিজারিয়ান ডেলিভারিতেও হতে পারে, বিশেষ করে মাথা বের করার সময় traction/pressure বেশি পড়লে।

  • দীর্ঘ বা কঠিন প্রসব: মাথায় ধারাবাহিক চাপ
  • ইন্সট্রুমেন্টাল ডেলিভারি: ফোর্সেপ/ভ্যাকুয়াম ব্যবহারে মাথায় নেগেটিভ/ডিরেক্ট প্রেসার
  • বড় শিশুর মাথা: ম্যাক্রোসোমিয়া, সীমানায় shear stress
  • অস্বাভাবিক পজিশন: Occiput posterior, অ্যাসিনক্লিটিজম
  • সিজারিয়ানেও ঝুঁকি: মাথা বের করার সময় অতিরিক্ত traction

৪) ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি (Risk factors)

মাতৃ ও ভ্রূণজনিত নানা ফ্যাক্টর ঝুঁকি বাড়ায়: প্রাইমিগ্র্যাভিডা মা (প্রথম গর্ভ), prolonged second stage, ভ্যাকুয়াম/ফোর্সেপ ব্যবহার, বড় বাচ্চা বা post-term, মায়ের ডায়াবেটিসে ম্যাক্রোসোমিয়া, PROM বা ইনফেকশনজনিত দুর্বল টিস্যু, কম প্রশিক্ষিত সেটিংসে ডেলিভারি। এই ফ্যাক্টরগুলো মাথায় চাপ ও shear force বাড়িয়ে ছোট vein rupture করায়।

  • লেবার-সম্পর্কিত: Prolonged labor, ক্যাপুট, মোল্ডিং
  • ইন্সট্রুমেন্ট: Vacuum/forceps
  • ফেটাল সাইজ: Macrosomia, post-term
  • মাতৃ অসুস্থতা: Diabetes
  • সেটিং: কম রিসোর্স/কম দক্ষতা

৫) লক্ষণ ও উপস্থাপনা (Clinical features)

সাধারণত জন্মের কয়েক ঘণ্টা পরে ফোলা স্পষ্ট হয়, কারণ রক্ত ধীরে ধীরে জমে। এটি কনভেক্স, সীমাবদ্ধ, স্যুচার লাইন ক্রস করে না, স্পর্শে নরম/স্পঞ্জি, ত্বকে হালকা কালশিটে থাকতে পারে। শিশুর নিউরোলজিক লক্ষণ থাকে না—খাওয়ায় স্বাভাবিকতা থাকতে পারে। বড় হলে মাথার সেই অংশ দৃশ্যত উঁচু দেখে অভিভাবক আতঙ্কিত হন। সময়ের সঙ্গে ফোলা শক্ত/রাবারি হয়ে যেতে পারে (ক্যালসিফিকেশন শুরু হলে), আবার রেসর্পশনের ফেজে আকার ছোট হতে থাকে।

  • সময়: জন্মের পরপর নয়, কয়েক ঘণ্টা পরে স্পষ্ট
  • সীমানা: Suture line ক্রস করে না
  • স্পর্শে অনুভূতি: নরম/স্পঞ্জি, পরে রাবারি
  • ত্বকের পরিবর্তন: হালকা ব্রুইজিং
  • সিস্টেমিক লক্ষণ: সাধারণত নেই

৬) ডিফারেনশিয়াল ডায়াগনোসিস (Differentials)

Cephalhematoma-কে Caput Succedaneum ও Subgaleal hemorrhage থেকে পৃথক করতে হয়। Caput জন্মের সময়ই থাকে, ত্বকের edema, স্যুচার ক্রস করে; কয়েক ঘণ্টায় কমে। Subgaleal hemorrhage galea-এর নিচে—ব্যাপক, স্কাল জুড়ে move করে, গুরুতর; প্যালর, ট্যাকিকার্ডিয়া, শক দেখা যেতে পারে। Skull fracture থাকলে স্থানীয় deformity/ক্রেপিটাস; ইনফেক্টেড cephalhematoma হলে ত্বক লাল/গরম, সিস্টেমিক অসুস্থতা।

  • Caput Succedaneum: ত্বকের এডিমা, প্রসবের সময়ই, দ্রুত কমে
  • Subgaleal hemorrhage: বিস্তৃত রক্তপাত, শক হতে পারে
  • Skull fracture: স্থানীয় বিকৃতি/ক্রেপিটাস
  • Infected hematoma: ত্বক লাল/উষ্ণ, জ্বর

৭) কখন উদ্বেগের কারণ (Red flags)

যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নয়, কিছু সাইন prompt মূল্যায়ন চায়: খুব দ্রুত আকার বৃদ্ধি, শিশুর প্যালর/ট্যাকিকার্ডিয়া (রক্তক্ষরণ/অ্যানিমিয়ার ইঙ্গিত), খাওয়ায় সমস্যা, অতিরিক্ত জন্ডিস (বিলিরুবিন বৃদ্ধি), ত্বক লাল ও গরম (ইনফেকশন), তাপমাত্রা অস্বাভাবিক, লেথার্জি। এছাড়া scalp-এর বিস্তৃত ওঠানামা, স্কাল জুড়ে ফোলা—Subgaleal hemorrhage সন্দেহে জরুরি পদক্ষেপ।

  • দ্রুত বড় হওয়া ফোলা
  • প্যালর/ট্যাকিকার্ডিয়া
  • খাওয়ায় সমস্যা/লেথার্জি
  • বেশি জন্ডিস
  • ত্বক লাল/উষ্ণ/ব্যথা

৮) নির্ণয় (Diagnosis & evaluation)

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা দিয়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ণয় সম্ভব—সীমাবদ্ধ, স্যুচার-লিমিটেড, নরম ফোলা। সন্দেহ থাকলে আল্ট্রাসাউন্ডে সাবপেরিওস্টিয়াল কালেকশন দেখা যায়। খুব বিরল ক্ষেত্রে স্কাল ফ্র্যাকচারের সন্দেহে স্কাল এক্স-রে বা সিটি করা যেতে পারে। জন্ডিসের ঝুঁকি থাকলে বিলিরুবিন মনিটরিং, অ্যানিমিয়ার ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন/হিমাটোক্রিট দেখা, ইনফেকশন সন্দেহে CRP/WBC। নিউরোলজিক লক্ষণ থাকলে নিউরো ইভালুয়েশন প্রয়োজন।

  • ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা: স্যুচার-লিমিটেড, নরম ফোলা
  • আল্ট্রাসাউন্ড: সাবপেরিওস্টিয়াল ফ্লুইড/রক্ত
  • স্কাল ইমেজিং: ফ্র্যাকচার সন্দেহে
  • ল্যাব: বিলিরুবিন, Hb/Hct, CRP/WBC

৯) প্যাথোফিজিওলজি ও স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি (Pathophysiology & course)

রক্ত জমে subperiosteal স্পেসে ক্লট হয়; কয়েক দিন–সপ্তাহে ফাইব্রিনোলাইসিস/ম্যাক্রোফাজ কার্যক্রমে রেসর্পশন হয়। এই সময়ে হাড়ের সীমানায় ফোলা “হার্ড রিম” অনুভূত হতে পারে (অস্থায়ী ক্যালসিফিকেশন)। সাধারণত ২–৬ সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, কখনও ৩ মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। বড় কালেকশনে বিলিরুবিন স্পাইক হতে পারে, তাই নবজাতকের জন্ডিস মনিটরিং জরুরি।

  • রক্তের রেসর্পশন: ধীরে ধীরে ক্লট ভাঙে
  • রিম-কঠিনতা: অস্থায়ী ক্যালসিফিকেশন
  • সময়সীমা: সাধারণত ২–৬ সপ্তাহ
  • জন্ডিস ঝুঁকি: বড় হেমাটোমায় বেশি

১০) অভিভাবকদের সচেতনতা (Parent education)

আতঙ্ক নয়—পর্যবেক্ষণ। ফোলা সাধারণত নিজে থেকেই কমে। মাথায় চাপ দিয়ে ম্যাসাজ/সুঁই ঢোকানো—এসব করা যাবে না; ইনফেকশনের ঝুঁকি। বাচ্চার খাওয়ায়, ঘুম, রঙ (জন্ডিস), আচরণ দেখুন। লাল/গরম, ব্যথা, দ্রুত বড় হওয়া, খেতে না চাওয়া, অতিরিক্ত কান্না—এই সাইন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ফলো-আপে আকার, রং, তাপ, শিশুর সামগ্রিক সুস্থতা নথিবদ্ধ করা ভালো।

  • ম্যাসাজ নয়, চাপ নয়
  • জন্ডিস নজরদারি
  • রেড ফ্ল্যাগ দেখলে দ্রুত যান
  • নিয়মিত ফলো-আপ