ইনফ্যান্টাইল হাইপারট্রফিক পাইলোরিক স্টেনোসিসের ৫টি প্রধান দিক: পরিচিতি, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও শিশুদের সতর্কতা
Infantile Hypertrophic Pyloric Stenosis হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুর পাকস্থলীর নিচের অংশে থাকা পাইলোরাস নামের মাংসপেশি অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে যায়। এর ফলে পাকস্থলী থেকে খাবার বা দুধ অন্ত্রে যেতে পারে না। সাধারণত ২–৮ সপ্তাহ বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি দেখা যায়। ছেলেদের মধ্যে মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি হয়, বিশেষ করে প্রথম সন্তান ছেলে হলে ঝুঁকি বেশি থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে শিশুর বারবার বমি, ওজন না বাড়া এবং ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।
১) পরিচিতি ও বয়স
Infantile Hypertrophic Pyloric Stenosis হলো একটি গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা। এটি মূলত নবজাতকের পাকস্থলীর নিচের অংশে থাকা পাইলোরাস নামের মাংসপেশিকে প্রভাবিত করে। পাইলোরাস হলো পাকস্থলী ও ছোট অন্ত্রের সংযোগস্থল, যেখানে খাবার পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে প্রবেশ করে। যখন এই অংশের মাংসপেশি অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে যায়, তখন খাবার বা দুধ অন্ত্রে যেতে পারে না। এর ফলে শিশুর বারবার বমি হয়, ওজন বাড়ে না, এবং শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।
সাধারণত ২–৮ সপ্তাহ বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগ দেখা যায়। ছেলেদের মধ্যে মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি হয়, বিশেষ করে প্রথম সন্তান ছেলে হলে ঝুঁকি বেশি থাকে। যদিও সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা যায় না, তবে জেনেটিক প্রবণতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং কিছু হরমোনাল ফ্যাক্টরকে দায়ী করা হয়। সময় মতো চিকিৎসা না করলে শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে এই রোগ সাধারণত নবজাতকের জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। পাইলোরাস মাংসপেশি অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে যায়, ফলে খাবার পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যেতে পারে না। ছেলেদের মধ্যে মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি হয় এবং প্রথম সন্তান ছেলে হলে ঝুঁকি বেশি থাকে।
- সাধারণত ২–৮ সপ্তাহ বয়সে দেখা যায়
- ছেলেদের মধ্যে বেশি হয়
- প্রথম সন্তান ছেলে হলে ঝুঁকি বেশি
- পাইলোরাস মাংসপেশি অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়
- খাবার পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যেতে পারে না
২) লক্ষণ (Symptoms)
এই রোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো প্রজেকটাইল ভমিটিং। শিশুটি দুধ খাওয়ার পর এমনভাবে বমি করে যেন তা দূরে ছিটকে যায়। বমিতে সাধারণত দুধ থাকে কিন্তু পিত্ত থাকে না, তাই এটি সাদা রঙের হয়। বমির পর শিশুটি আবার খেতে চায়, যাকে বলা হয় “hungry baby after vomiting।” এছাড়া শিশুর ওজন বাড়ে না বা কমে যায়, যা অভিভাবকদের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। দীর্ঘমেয়াদে ডিহাইড্রেশন হয়—মুখ শুকিয়ে যায়, প্রস্রাব কম হয়, এবং শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিশুর কান্না অস্বাভাবিক হয়ে যায়, সে অস্থির থাকে এবং ঘন ঘন খাওয়ার পরও শান্ত হয় না।
যদি চিকিৎসা না করা হয়, শিশুর শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো প্রজেকটাইল ভমিটিং—শিশুটি দুধ খাওয়ার পর এমনভাবে বমি করে যেন তা দূরে ছিটকে যায়। বমিতে দুধ থাকে কিন্তু পিত্ত থাকে না, তাই এটি সাধারণত সাদা রঙের হয়। বমির পর শিশুটি আবার খেতে চায়। এছাড়া ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়া এবং ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।
- প্রজেকটাইল ভমিটিং (দুধ দূরে ছিটকে যায়)
- বমিতে দুধ থাকে কিন্তু পিত্ত থাকে না
- বমির পর শিশুটি আবার খেতে চায়
- ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়া
- ডিহাইড্রেশন: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কম প্রস্রাব, দুর্বলতা
৩) পরীক্ষা‑নিরীক্ষা (Diagnosis)
Infantile Hypertrophic Pyloric Stenosis নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG)। এতে পাইলোরাসের পুরুত্ব ও দৈর্ঘ্য মাপা হয়। সাধারণত ≥৩ মিমি পুরুত্ব এবং ≥১৫–১৮ মিমি দৈর্ঘ্য হলে এটি নিশ্চিত হয়। শারীরিক পরীক্ষায় ডাক্তার শিশুর পেটের ডান উপরের অংশে ছোট গাঁট অনুভব করতে পারেন, যা “olive-shaped mass” নামে পরিচিত। এছাড়া রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় hypochloremic, hypokalemic metabolic alkalosis—অর্থাৎ ক্লোরাইড ও পটাসিয়াম কমে যায় এবং রক্তের pH বেড়ে যায়।
এই পরিবর্তনগুলো শিশুর শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা, USG এবং ব্লাড টেস্ট একত্রে ডায়াগনসিস নিশ্চিত করে। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG)। এতে পাইলোরাসের পুরুত্ব ≥৩ মিমি এবং দৈর্ঘ্য ≥১৫–১৮ মিমি হলে নিশ্চিত হয়। রক্ত পরীক্ষায় সাধারণত hypochloremic, hypokalemic metabolic alkalosis দেখা যায়। শারীরিক পরীক্ষায় ডাক্তার শিশুর পেটের ডান উপরের অংশে ছোট গাঁট অনুভব করতে পারেন।
- USG: পাইলোরাসের পুরুত্ব ≥৩ মিমি, দৈর্ঘ্য ≥১৫–১৮ মিমি
- সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা
- ব্লাড টেস্টে hypochloremic, hypokalemic metabolic alkalosis
- শারীরিক পরীক্ষায় পেটের ডান উপরের অংশে গাঁট অনুভূত হয়
৪) চিকিৎসা (Treatment)
চিকিৎসা একমাত্র সার্জারি—Pyloromyotomy (Ramstedt’s operation)। এতে পাইলোরাসের বাইরের পুরু স্তর কেটে দেওয়া হয়, যাতে খাবার সহজে অন্ত্রে যেতে পারে। অপারেশনের আগে শিশুর শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইট ঠিক করা হয়, সাধারণত IV fluids (normal saline + potassium) দেওয়া হয়। এরপর অপারেশন করা হয়, যা সাধারণত laparoscopic পদ্ধতিতে ছোট কাটা দিয়ে করা হয়। এই পদ্ধতিতে ক্ষত ছোট হয়, ব্যথা কম হয় এবং শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ শিশু ১–২ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং খাওয়া শুরু করতে পারে। একজন পেডিয়াট্রিক সার্জন অপারেশনের সময়কাল ও ফলাফল সম্পর্কে পরামর্শ দেন এবং অপারেশন পরিচালনা করেন। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে।
চিকিৎসা একমাত্র সার্জারি—Pyloromyotomy (Ramstedt’s operation)। অপারেশনের আগে শিশুর শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইট ঠিক করা হয় (IV fluids দিয়ে)। এরপর পাইলোরাসের বাইরের স্তর কেটে দেওয়া হয় যাতে খাবার সহজে অন্ত্রে যেতে পারে। সাধারণত laparoscopic ছোট কাটা দিয়ে করা হয়। বেশিরভাগ শিশু ১–২ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
- চিকিৎসা একমাত্র সার্জারি: Pyloromyotomy
- অপারেশনের আগে IV fluids দেওয়া হয়
- বাইরের স্তর কেটে খাবার চলাচলের পথ প্রশস্ত করা হয়
- সাধারণত laparoscopic ছোট কাটা দিয়ে করা হয়
- বেশিরভাগ শিশু ১–২ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়
৫) শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ দ্রুত জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই সময়মতো ডায়াগনসিস ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হয়—বারবার বমি, ওজন না বাড়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা প্রস্রাব কম হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অপারেশনের আগে শিশুর শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইট ঠিক করা অপরিহার্য। অপারেশনের পর শিশুকে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফলাফল ভালো হয় এবং শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। তবে অভিভাবকদের নিয়মিত ফলো‑আপ করতে হয়। শিশুর জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে মানতে হয়। টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক এবং নিয়মিত ফলো‑আপ তাদের জন্য অপরিহার্য। অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হয় এবং সামান্য অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ দ্রুত জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। বারবার বমি, ওজন না বাড়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা প্রস্রাব কম হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অপারেশনের আগে পানি ও ইলেকট্রোলাইট ঠিক করা অপরিহার্য। অপারেশনের পর শিশুকে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফলাফল ভালো হয় এবং শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে।
- সময়মতো ডায়াগনসিস জরুরি
- অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হয়
- অপারেশনের আগে পানি ও ইলেকট্রোলাইট ঠিক করা হয়
- অপারেশনের পর কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়
- নিয়মিত ফলো‑আপ প্রয়োজন
শেষ কথাঃ
Infantile Hypertrophic Pyloric Stenosis একটি গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা। সাধারণত ২–৮ সপ্তাহ বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং ছেলেদের মধ্যে বেশি হয়। প্রধান লক্ষণ হলো প্রজেকটাইল ভমিটিং, ওজন না বাড়া এবং ডিহাইড্রেশন। USG সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা, আর চিকিৎসা হলো সার্জারি—Pyloromyotomy। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। অভিভাবকদের সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শই শিশুর নিরাপত্তার মূল। Infantile Hypertrophic Pyloric Stenosis একটি গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা। প্রধান লক্ষণ হলো প্রজেকটাইল ভমিটিং, ওজন না বাড়া এবং ডিহাইড্রেশন। USG সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা, আর চিকিৎসা হলো সার্জারি—Pyloromyotomy। সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে।
মনে রাখো: শিশুর বারবার বমি বা ওজন না বাড়া কখনোই অবহেলা করো না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই নিরাপদ। 250464
%20Introducti.jpg)