১) নিউরোব্লাস্টোমার উৎপত্তি (Origin)
Neuroblastoma-এর উৎপত্তি neural crest cells থেকে। ভ্রূণ অবস্থায় এই কোষগুলো sympathetic nervous system গঠন করে। এজন্য টিউমারটি সাধারণত অ্যাড্রেনাল medulla থেকে উৎপন্ন হয়। তবে এটি শরীরের অন্যান্য sympathetic chain যেমন — গলা, বুক, পেট বা পেলভিসেও হতে পারে।
২) কারা বেশি আক্রান্ত হয়
Neuroblastoma সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
- ২–৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি
- ছেলেমেয়ে উভয়ের মধ্যে হতে পারে
- কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণেও হতে পারে
শিশুদের মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যান্সার, কারণ সময়মতো চিকিৎসা না করলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
৩) লক্ষণ (Symptoms)
Neuroblastoma-এর লক্ষণ নির্ভর করে টিউমার কোথায় হয়েছে তার উপর।
- পেট ফোলা বা পেটে গাঁট
- খাওয়ায় অনীহা
- ওজন কমে যাওয়া
- জ্বর, দুর্বলতা
- চোখের চারপাশে কালচে দাগ (“raccoon eyes”)
- হাড়ে ব্যথা (যদি metastasis হয়)
শিশুর পেটে ফোলা বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
৪) ডায়াগনসিস (Diagnosis)
Neuroblastoma নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।
- Ultrasound: টিউমারের অবস্থান দেখা যায়।
- CT Scan: টিউমারের আকার ও বিস্তার দেখা যায়।
- Urine catecholamine metabolites: ২৪ ঘন্টার VMA (Vanillylmandelic acid) বৃদ্ধি পাওয়া যায়।
- Biopsy: definitive diagnosis — small round blue cells দেখা যায়।
- Bone marrow study: মেটাস্টেসিস আছে কিনা দেখা হয়।
এই পরীক্ষাগুলো চিকিৎসককে নিশ্চিত করতে সাহায্য করে যে শিশুর Neuroblastoma হয়েছে কিনা এবং টিউমারের বিস্তার কতটা।
৫) স্টেজিং (Staging)
Neuroblastoma-এর স্টেজিং টিউমারের বিস্তার অনুযায়ী করা হয়।
| স্টেজ | বর্ণনা |
|---|---|
| I | টিউমার সীমাবদ্ধ, সম্পূর্ণ অপসারণযোগ্য |
| II | কাছের টিস্যু বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়েছে |
| III | দুই পাশে বা মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে |
| IV | দূরবর্তী অঙ্গে (হাড়, লিভার ইত্যাদি) ছড়িয়েছে |
| IV-S | বিশেষ ধরণ — নবজাতকের সীমিত মেটাস্টেসিস, অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেরে যায় |
স্টেজিং চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬) জটিলতা (Complications)
Neuroblastoma চিকিৎসা না করলে বা দেরি হলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
- টিউমার বড় হয়ে পেটের অন্যান্য অঙ্গকে চাপ দেয়
- প্রস্রাবের সমস্যা
- কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
- ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া (metastasis)
তাই সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
৭) প্রতিরোধ (Prevention)
Neuroblastoma একটি জন্মগত বা জেনেটিক সমস্যা হতে পারে, তাই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।
- শিশুর পেটে কোনো ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া
- ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা
- শিশুর স্বাস্থ্য ও ওজন পর্যবেক্ষণ করা
অভিভাবকদের সচেতনতা Neuroblastoma দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
৬) চিকিৎসা (Treatment)
Neuroblastoma-এর চিকিৎসা বহুমাত্রিক (multidisciplinary)। এতে শিশু সার্জন, অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট এবং পেডিয়াট্রিক ইউরোলজিস্ট একসাথে কাজ করেন। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো টিউমার অপসারণ করা, ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এবং শিশুর জীবন বাঁচানো।
চিকিৎসা নির্ভর করে শিশুর বয়স, টিউমারের অবস্থান, স্টেজ এবং ঝুঁকির মাত্রার উপর।
- Surgery: টিউমার অপসারণ করা হয়। যদি টিউমার সীমাবদ্ধ থাকে তবে সম্পূর্ণ অপসারণ সম্ভব।
- Chemotherapy: টিউমার ছোট করতে এবং ছড়ানো কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়।
- Radiotherapy: কিছু ক্ষেত্রে টিউমার ছড়িয়ে পড়লে বা অপারেশনের পর অবশিষ্ট কোষ ধ্বংস করতে দেওয়া হয়।
- Stem cell transplant: উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্য প্রয়োগ করা হয়।
- Immunotherapy / Targeted therapy: উন্নত সেন্টারে প্রয়োগ হয়, যেখানে বিশেষ ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষকে টার্গেট করা হয়।
৭) সার্জারি (Surgery)
Neuroblastoma-এর definitive treatment হলো সার্জারি।
- Complete resection: টিউমার সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
- Partial resection: যদি টিউমার বড় হয় বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সাথে যুক্ত থাকে, তখন আংশিক অপসারণ করা হয়।
সার্জারির পর শিশুকে ICU-তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
৮) কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি
Neuroblastoma চিকিৎসায় কেমোথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- Neoadjuvant chemotherapy — অপারেশনের আগে টিউমার ছোট করতে দেওয়া হয়।
- Adjuvant chemotherapy — অপারেশনের পর পুনরায় দেওয়া হয়।
- Radiotherapy — টিউমার ছড়িয়ে পড়লে বা advanced stage হলে দেওয়া হয়।
কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি শিশুর শরীরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, যেমন চুল পড়া, দুর্বলতা, বমি ইত্যাদি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৯) স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট ও ইমিউনোথেরাপি
উচ্চ ঝুঁকির Neuroblastoma রোগীদের জন্য stem cell transplant করা হয়। এতে শিশুর শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে কেমোথেরাপির পর পুনরায় শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
ইমিউনোথেরাপি বা targeted therapy উন্নত সেন্টারে প্রয়োগ হয়। এতে বিশেষ ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষকে টার্গেট করা হয়, ফলে সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
১০) ফলো‑আপ (Follow-up)
Neuroblastoma রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী ফলো‑আপ প্রয়োজন।
- নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও CT Scan করে টিউমার পুনরায় হচ্ছে কিনা দেখা
- রক্ত পরীক্ষা করে কিডনির কার্যক্ষমতা দেখা
- শিশুর বৃদ্ধি ও ওজন পর্যবেক্ষণ
- কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
ফলো‑আপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে চিকিৎসার পর শিশুর শরীরে টিউমার পুনরায় হয়নি এবং শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
১১) প্রগনোসিস (Prognosis)
Neuroblastoma-এর প্রগনোসিস নির্ভর করে টিউমারের স্টেজ, শিশুর বয়স এবং চিকিৎসার সময়ের উপর।
- Early stage-এ চিকিৎসা করলে ফলাফল ভালো হয়।
- Advanced stage-এ চিকিৎসা করলে ফলাফল তুলনামূলকভাবে কম ভালো হয়।
- IV-S stage নবজাতকের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেরে যায়।
বর্তমানে সার্জারি, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির উন্নতির ফলে Neuroblastoma রোগীদের বেঁচে থাকার হার অনেক বেড়েছে।
১২) অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ (Advice for Parents)
অভিভাবকদের উচিত শিশুর পেটে কোনো ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
- শিশুর পেটে ফোলা বা অস্বাভাবিকতা দেখলে অবহেলা না করা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানো
- সার্জারি ও কেমোথেরাপির পর নিয়মিত ফলো‑আপ করানো
- শিশুকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া
শেষ কথাঃ (Conclusion)
Neuroblastoma হলো শিশুদের একটি গুরুতর ক্যান্সার, যা সাধারণত অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। এটি ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে অধিকাংশ শিশুই আরোগ্য লাভ করে। অভিভাবকদের সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে। 250464
