ডায়াফ্রামেটিক হার্নিয়া

 এঞ্জেলনামা:

হার্নিয়া বলতে আমরা সাধারন মানুষ যা বুঝি, সেটা মুলত কুচকি/অণ্ডকোষের হার্নিয়া। কিন্তু নবজাতক/ছোট বাচ্চাদের এক ধরনের হার্নিয়া হয়ে থাকে, যেটাকে বলা হয় ডায়াফ্রামেটিক হার্নিয়া। 

জন্মগতভাবে মানূষের পেটের আর বুকের মাঝে  একটা মোটা পর্দা থাকে( যেটাকে ডায়াফ্রাম  বলে), যেনো পেটের যন্ত্রপাতি (লিভার,পাকস্থলী,  নাড়ি,প্লিহা) বুকে না উঠে যায়, আবার বুকের যন্ত্রপাতি (হার্ট, ফুসফুস)  নিচে না নেমে যায়। 

কিন্তু কিছু কিছু বাচ্চাদের জন্মগতভাবে ঐ পর্দাতে(ডায়াফ্রামে) ছিদ্র থাকে, যার ফলে পেটের জিনিসপত্র সব বুকে উঠে যায়, এর ফলে ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে, হার্ট একদিকে চেপে যায়। ফলে বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে নি:শ্বাস নিতে পারেনা, অনেক বাচ্চার সারা বছর সর্দি-কাশি লেগে থাকে। অনেক বাচ্চা জন্মের পরপরই মারা যায় রোগ ধরা পড়ার আগেই।


ছবির বাচ্চাটিকে ভাগ্যবান বলা যাতে পারে। জন্মের পরপরই তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা এই এঞ্জেলটা একজন শিশু বিশেষজ্ঞ তার রোগটা বুঝতে পেরে সার্জারী করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। সাধারনত এই অপারেশন করার আগে পরে ICU সাপোর্ট দরকার হয়, সেই সূবর্ন সুযোগ গরিব দেশের কজনের ভাগ্যেই বা জোটে। তাই একরকম বাধ্য হয়েই অপারেশন করতে রাজি হতে হয়। এনেস্থিটিস্ট এর সাহসী পদক্ষেপ এক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আলহামদুলিল্লাহ  অপারেশনের পর আজ ৫ম দিনে বাচ্চাটা  নানীর সাথে বাড়ি চলে যাচ্ছে। একজন সার্জনের জন্য এরচে আনন্দের দৃশ্য আর কি হতে পারে।





WhatsApp Call Now